রাজধানীতে গার্মেন্টস কর্মী সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দু'জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২০   

আদালত প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রাজধানীর আদাবরে এক গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দু'জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার পাঁচ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামছুন্নাহার রোববার দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- সজীব ঢালী এবং আবু হাসান ওরফে সাঈদ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে পলাতক দুই আসামি আকাশ ওরফে মোসলেম এবং আনোয়ার বয়াতির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কোনো সাক্ষী আসামিদের নাম বলেনি বা শনাক্ত করেনি। শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগর স্বপন সমকালকে বলেন, বিচারক দু'জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দু'জনকে খালাস দিয়েছেন। চারজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে আমরা খুশি হতাম।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি রাতে গার্মেন্টস কর্মী তরুণী কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। শ্যামলী হাউজিং প্রকল্পের পানির পাম্পের সামনে পৌঁছালে সজীব, আবু হাসানসহ অজ্ঞাতনামা দু'জন ভিকটিমের গতিরোধ করে টেনেহিঁচড়ে আজিম গার্মেন্টসের ফাঁকা মাঠে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পরদিন ভিকটিমের মা আদাবর থানায় মামলা করেন। পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি মামলাটি তদন্ত করে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।