বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা কমাতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অন্যরা হলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার তাদের এ নোটিশ পাঠান। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে পাঠানো নোটিশে বজ্রপাতের কারণ ও হতাহত এড়ানোর বিভিন্ন উপায় উল্লেখ করে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রতি বছর শত শত মানুষ ও গবাদিপশু মারা যাচ্ছে বজ্রপাতে। হতাহতের সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। বজ্রপাতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বিশেষত কৃষক ও জেলে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। 

নোটিশে আরও বলা হয়, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধা দেশের সবচেয়ে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। বজ্রপাতে নিহতের সংখ্যা এখন অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন- সাইক্লোন, বন্যা, ভূমিধসে নিহতের সংখ্যার চেয়ে বেশি। সরকার যদিও বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে ঘোষণা করেছে, তথাপি বজ্রপাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

বজ্রপাতে হতাহত এড়াতে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ইতোমধ্যে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশেও সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে বজ্রপাতের ফলে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি, আগাম সতর্কতামূলক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি, হাওর-বাওর এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক বজ্রপাত আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, পাম গাছ রোপণ, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং এবং বজ্রপাত থেকে বাঁচার বিভিন্ন কৌশল লিফলেট আকারে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বিতরণ ইত্যাদি। 

এছাড়া বজ্রপাত ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত যেসব যন্ত্রপাতি কিনতে হবে সেসব সরঞ্জামাদি সহজলভ্য করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে নোটিশে অনুরোধ করা হয়েছে।  নোটিশে বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ এবং বজ্রপাতে হতাহতের সংখা কমাতে আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।