বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা বাস্তবতার নিরিখে অপরিহার্য। এতে বিচারপতি নিয়োগের কাজ আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর হবে। জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগের স্বচ্ছতা সম্পর্কে ভিত্তিহীন ধারণা দূরীভূত হবে।

বুধবার নিজের বিদায়ী সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। মহান বিজয় দিবস, সাপ্তাহিক ছুটিসহ কাল বৃহস্পতিবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু হচ্ছে। এ হিসাবে আজ তার বিচারিক জীবনের শেষ কার্যদিবস।

প্রথা অনুসারে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দিয়ে থাকে। প্রধান বিচারপতির ১ নম্বর এজলাসকক্ষে আজ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এ কথা অনস্বীকার্য যে মামলার সংখ্যা বিবেচনায় আমাদের বিচারকের সংখ্যা অপ্রতুল। মামলাজট নিরসনে দেশের অধস্তন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বিচারকের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে দ্বিগুণ করা প্রয়োজন। জেনে খুশি হয়েছি যে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।’

বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার নিরন্তর কাজ করলেও অনেক জেলায় এখনও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিল্ডিং নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ফিজিক্যাল ও ভার্চ্যুয়াল কোর্ট যুগপৎভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করলে বিচার নিষ্পত্তি আরও দ্রুততর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

বিচারকদের উদ্দেশে বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অন্তর্নিহিত শক্তির উৎস হলো জনগণের আস্থা। এটি হলো বিচারকের সততা, সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার প্রতি গণমানুষের অবিচল বিশ্বাস। সাধারণ মানুষের এ আস্থা অর্জনের জন্য বিচারকদের একদিকে যেমন উঁচু নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, তেমনি অন্যদিকে সদা বিকাশমান ও পরিবর্তনশীল আইন, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও সামাজিক মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এটি অর্জন কেবল নিয়মিত অধ্যয়ন, সময়মতো ও আইনানুগভাবে বিচারিক কাজ সম্পন্নের মাধ্যমে হয়।

তিনি বলেন, ‘এ কথা অনস্বীকার্য যে বিপুলসংখ্যক মামলাজট আমাদের জন্য গ্রেট চ্যালেঞ্জ। মামলাজট হ্রাস ও মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে বিচারকদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ এ সময় বিচারপ্রার্থীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধসহ বিচারকার্য পরিচালনার জন্য সব স্তরের বিচারকদের অনুরোধ জানান সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। এ দায়িত্ব পালনকালে ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি দুই বছরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরদিন তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।