পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুসারে আগামীকাল রোববার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক শীতকালীন ছুটি শুরু হবার কথা। এরই মধ্যে মূল্যায়ন শেষ করে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা। এর একদিন আগে শনিবার প্রাথমিকের বিভাগীয় উপ-পরিচালকরা প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চালিয়ে যেতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা এতে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম সমকালকে বলেন, রিমিডিয়াল প্লান অনুসারে ক্লাস ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্তই চলবে।

তিনি বলেন, 'যেহেতু এ বিষয়ে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তাই এখনই আমরা একটি সার্কুলার জারি করছি।'

মহাপরিচালক জানান, ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চলবে। ২৪ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি থাকবে।

পরে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ শাখা থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলারে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন (বড় দিন) ও শীতকালীন অবকাশ বর্ষপঞ্জিতে উল্লেখিত ১৯-২৯ ডিসেম্বর ০২১ তারিখের পরিবর্তে ২৪-২৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২১ খ্রিস্টাব্দের বাৎসরিক ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সে অনুযায়ী দেশের প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌখিক বা লিখিত মূল্যায়ন শেষ করা হয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা দূর-দূরান্তে বেড়াতে গেছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একই পরিবারের প্রাথমিকের শিশুরাও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারেই কম। এই অবস্থায় আমরা ১৯ ডিসেম্বর থেকেই শীতকালীন ছুটি মঞ্জুরের দাবি জানাচ্ছি।