সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে স্থায়ী আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল। নির্বাচন কমিশন গঠনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে পাঁচ দফা প্রস্তাবনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শাসনতন্ত্র মোতাবেক একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে সাম্যবাদী এসব প্রস্তাব তুলে ধরে। নতুন ইসি গঠনে চলমান সংলাপের নবম দিনে রাষ্ট্রপতির বৈঠকে বসে ১৪ দলের শরিক এই দলটি। তবে এ দিন সন্ধ্যা সাতটায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের কথা থাকলেও চরমোনাইর পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি তা বর্জন করেছে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়ার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ করেন তারা। এ সময় দলের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পাঁচ দফা প্রস্তাবনাও রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া হয়।

সংলাপ শেষে বঙ্গভবনের গেটে সংলাপের আলোচনার বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী আইন করে ওই আইনের অধীনে ইসি গঠন না হলে এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হবে না। এই কারণেই তারা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান দিলীপ বড়ূয়া।

সাম্যবাদী দলের পাঁচ দফা প্রস্তাবনায় রয়েছে- একটি নিরপেক্ষ, সক্ষম, শক্তিশালী, দক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি স্থায়ী আইন প্রণয়ন; আইনের অনুপস্থিতিতে সার্চ কমিটি গঠন করতে হলে সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি কাউন্সিল গঠন; জাতীয় নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শাসনতন্ত্র মোতাবেক একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রভৃতি।

বর্তমান ইসির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নতুন কমিশন গঠন করবেন, যাদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নতুন ইসি গঠনে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি মো, আবদুল হামিদ। নয়দিনে ১৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে দিনক্ষণ নির্ধারণ করে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সিপিবি, বাসদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেয়নি।

চলমান সংলাপের দশম দিনে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং সন্ধ্যা সাতটায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

গ্রহণযোগ্য ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গুরুত্বপূর্ণ: রাষ্ট্রপতি

সাম্যবাদী দলের সঙ্গে সংলাপকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন যাতে গঠন করা যায়, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রাজনীতিতে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আর এ কাজটি রাজনৈতিক দলগুলোকেই করতে হবে।

বঙ্গভবনে সাম্যবাদী দলের তাদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এবং সচিব (সংযুক্ত) ওয়াহিদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।