ছেলেদের সুখের জন্য ঘরছাড়া এক মায়ের গল্প

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৯      

সাজ্জাদ হোসেন

অনেকদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে মায়ের কান্না -সমকাল

প্রখর রোদের মধ্যে রিকশায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন এক যুবক। হঠাৎই পথের মাঝে রিকশা থামিয়ে লাঠিতে ভর দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে খেই হারিয়ে ফেললেন ওই বৃদ্ধা, পরে তিনিও ওই যুবকের মাথা-শরীরে হাত বুলাতে বুলাতে কাঁদতে শুরু করেন। এরপর যুবকটি পথের ধারে বৃদ্ধাকে বসিয়ে পাশের দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসেন কেক আর জুস। 

পথের ধারে এমন দৃশ্য দেখে এরই মাঝে আশপাশে ভিড় করেছেন অনেক মানুষ। ঘটনাটি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা-সম্রাট-লতিফ রিয়েল এস্টেটের।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের প্রশ্নে শাহাবুদ্দিন নামের ওই যুবক জানান, ওই বৃদ্ধা তার মা। অনেক আগেই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়েছেন তিনি। এরপর থেকে পথে পথে হন্যে হয়ে মাকে খুঁজেছেন শাহাবুদ্দিন। কিন্তু কোথাও তার দেখা পাননি, কেউ দিতে পারেনি তার মায়ের সন্ধান। 

তিনি জানান, তাদের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারা ইউনিয়নে। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। তাদের মেঝো ভাই অনেক আগেই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তার আগে ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছেন তারা। এরপর থেকে মা-ই তাদের বড় করেছেন। কিন্তু তারা দুই ভাই বিয়ে করার পর মাকে সহ্য করতে পারতেন না স্ত্রীরা। মাঝেমধ্যেই তার বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। সেই কষ্টে মা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। 

শাহাবুদ্দিন বলেন, অনেকদিন পর মাকে পেয়েছি। এখন তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাই। 

ছবি তুলতে গেলেই ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন ওই বৃদ্ধা -সমকাল

এ সময় ওই বৃদ্ধার ছবি তুলতে গেলে বাধা দেন তিনি। বলেন, ‘বাবা ছবি তুইলো না, মানুষে দেখলে আমার ছেলের সন্মান যাইবো। ছেলেদের কোনো দোষ নাই, তারা আমারে কখনও কোনো কষ্ট দেয়নি। কিন্তু আমার জন্য বউরা সবসময় ছেলেদের কষ্ট দিত। তাই ওদের সুখের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আসছি। সারা জীবন কষ্ট করছি, বাকি দিনগুলোও আল্লাহ্‌ পার করে দিবে। দোয়া করি ছেলেরা সুখে থাক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বৃদ্ধা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর ভিক্ষা করেই জীবন চালান তিনি। থাকেন রায়েরবাজারের একটি বস্তিতে। ছেলেদের সুখ ছাড়া তার জীবনে আর কোনো চাওয়া নেই।