১০ মাস বয়সী নূর মোহাম্মদ বাবার আদর বোঝে না এখনও। এ বয়সেই মায়ের কোলে চড়ে বাবা হত্যার বিচার চাইতে মানববন্ধনে শামিল হয়েছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার রিকশাচালক আলফাজ হত্যার ৪৮ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

বুধবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।

নিহতের স্বজনরা জানান, আলফাজ মিয়া (২৮) মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয় আলফাজ। ময়মনসিংহ শহরে রিকশা চালাতেন। চার-পাঁচ দিন পরপর বাড়ি যেতেন। সাড়ে তিন বছর আগে শেরপুরের নফুজার খাতুনের সঙ্গে সংসার পেতেছিলেন। ১০ মাস আগে তাঁদের ঘরে নূর মোহাম্মদ নামে একটি সন্তানের জন্ম হয়।

গত ১৯ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে যান। বিকেলে স্থানীয় বটতলা পুড়াবাড়ি বাজার থেকে সংসারের বাজার করে বাড়িতে দিয়ে সন্ধ্যার দিকে বের হন। রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে মামা আমসর আলীর বাড়ির কাছে ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় আলফাজের। পরে নিহতের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের ভার পায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

বুধবার মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহতের মা খোদেজা খাতুন, স্ত্রী নফুজা খাতুন, ভাই শফিকুল ইসলাম।

নফুজা খাতুন বলেন, 'আমার অবুঝ শিশুটির কী হবে? আমার স্বামীর সঙ্গে তো কারও শত্রুতা ছিল না। আমার স্বামীরে যারা মারছে সেই খুনিদের বিচার চাই।'

মা খোদেজা খাতুন ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আহাজারি করেন মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে। নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। সে রিকশা চালত। নৃশংসভাবে তাঁকে হত্যা করা হলেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।'

ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন দু'জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েও আশানুরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন বিষয় মাথায় নিয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে কাজ করছেন তাঁরা।