পানে আগুন!

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

আগুন পান

যদি সুন্দর একটা মুখ পাইতাম, মহেশখালীর মিষ্টি পানের খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম কিংবা ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা পান খাইয়া যাও, মাঝি আল্লাহর দোহাই- পান নিয়ে এমন  কালজয়ী গান কেবল বাংলাতেই শুনা যায়। বাঙ্গালী অতিথি পরায়ন জাতি। খাবারের পর পান দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন বাঙ্গালী জাতির প্রাচীন ঐতিহ্য।  সময়ের সঙ্গে হরেক রকম নামে নাম করণ হয়েছে পানের।  যেমন, বেনারসি পান, শাহি পান, কাশ্মীরি পান, জামাই-বউ পান, প্রেমিক-প্রেমিকা পান, ভালোবাসার পান, হানিমুন পান আরও কত কী। 

যে নামেই ডাকা হয়না কেন পান তো পানই। খেয়ে ঠোট লাল করাই এর উদ্দেশ্য। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে এমন বাহারি নামের পান বিক্রি হয়ে থাকে। পানে এখন আর কেবল চুন, সুপারি আর খয়েরই ব্যবহৃত হয়না। মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, মোরব্বা, খেজুর, কিচমিচ, খোরমা, তানশিন, তেরেঙ্গা, এলাচ, চমন বাহার, তরক, ইমাম, নারকেল, সেমাই, ঝুরা ইত্যাদি

তবে ঢাকায় আজকাল পরিচিতি পেয়েছে নতুন নামের পান। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক লোক সবার কাছেই এ  পান হয়ে উঠছে জনপ্রিয়। সেটা ‘আগুন পান’। পুরান ঢাকায় বেশি পাওয়া যায় বলে সবাই পুরান ঢাকার আগুন পান নামেই পরিচিত এটি। 

পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারে পাওয়া যাবে এ পান। এই পান খেতে  প্রতিদিন শত শত মানুষ  ভিড় জমাচ্ছেন। পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারের চৌরাস্তায় পৌছালেই চোখে পড়বে ‌‌'আল্লাহর দান জলিল ভাইয়ের মিষ্টি পান', 'কাশ্মীরি মিঠা পান', ‌'মায়ের দোয়া পান বিতান' নামসহ হরেক নামের অনেক পানের দোকান। তবে এখানকার সব দোকানে পাওয়া যাবে না আগুন পান। কেবল  জলিল ভাইয়ের মিষ্টি পান  বা খাশ্মিরি মিঠা  পানের দোকানেই পাওয়া যাবে আগুন পান। এর জন্য গুণতে হবে ৩০ টাকা। তবে পান বেধে  ৩০০ টাকা দামে নানা রকম বাহারি পান খেতে পারবেন।

তাই আগুন পান খেয়ে ঠোট রাঙ্গাতে চলে আসতে পারেন পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারের এই এলাকায়। 

বিষয় : আগুন পান পুরান ঢাকার পান