ঘাম শরীরের সাধারণ একটি প্রক্রিয়া। ঘামের কারণে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু হালকা শীত কিংবা এসির মধ্যে বসেও যদি আপনি হঠাৎ করে ঘেমে যান, তবে এটা কিন্তু চিন্তার বিষয়। 

জিনগত সমস্যা কিংবা স্নায়ুর কোনও সমস্যা, হাইপারথাইরয়েডিজম, ক্যানসার, হরমোনের তারতম্যজনিত কারণ ছাড়াও বেশ কিছু কারণে এই সমস্যার সম্মুখীন আপনি হতে পারেন বলে চিকিৎসকরা জানান।

হাইপারথাইরয়েডিজম

থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় নানা রকম পরিবর্তন হয়। শরীরের বিভিন্ন বিক্রিয়ার কারণে বেশি তাপ উৎপন্ন হওয়ায় ঘাম হয়।

ক্যানসার

বোন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, লিউকোমিয়া ইত্যাদি ক্যানসারের রোগীরা স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি ঘামেন। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের কারণে শরীরে বেশি তাপ তৈরি হয়। 

ওষুধের প্রভাব

অ্যান্টিবায়োটিক, নার্ভের ওষুধ, হাই ব্লাড প্রেসারের ওষুধ নিয়মিত খেলে ঘাম বেশি হয়। ঘাম বেশি হচ্ছে বলে নিজে থেকে কখনই এই ওষুধ বন্ধ করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ডায়াবেটিস থাকলে

শরীরে হঠাৎ করে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে বেশি ঘাম হতে পারে।

মেনোপজের পর

অনেক নারীরই মেনোপোজের পর হট ফ্লাশের সমস্যা দেখা যায়। হট ফ্লাশ অর্থ কান-মাথা গরম হয়ে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া, অল্পতেই খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখানোর ফলে দ্রুত শরীর গরম হয়। ইস্ট্রোজেনের তারতম্যের জন্য এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়। সাধারণত পিরিয়ডসের শেষের দিকে এই ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। 

মানসিক সমস্যা

অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং রাগ থেকেও হঠাৎ করে শরীর গরম হয়ে ঘামের সমস্যা হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত রাগ দেহের তাপমাত্রা বাড়ায়। মানসিক সমস্যার জন্য যেসব ওষুধ দেওয়া হয় তার মধ্যে কিছু ওষুধে ঘাম বেশি হয়। এছাড়াও আরও নানা শারীরিক সমস্যার জন্য ঘাম বেশি হতে পারে। 

যে সমস্যার কারণে হোক না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।