শিশুর শিক্ষা শুরু হয় বাড়ি থেকে। পরিবার বিশেষ করে বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানী কিংবা চাচা-মামারা শিশুকে যেভাবে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা, মেলা-মেশা শেখাবেন সে সেভাবেই শিখবে। 

শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবা কিংবা মা হিসেবে আপনাকেই নজর দিতে হবে শিশুর দিকে। জেনে নিন শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে আপনার করণীয়-

শিশুর কাছে রোল মডেল হয়ে উঠুন

শিশুরা মা-বাবাকে দেখেই শেখে। এক্ষেত্রে আপনি পারেন আপনার শিশুকে ভাল শিক্ষা দিতে, কাজেই আপনি ওর সামনে যেমন আচরণ করবেন,  শিশু তাই শিখবে। তাই শিশুর সামনে সবসময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করুন, ভাল কাজ করুন, যাতে আপনার শিশু বড় হয়ে তার বাবা কিংবা মায়ের মতোই হতে চায়।

ধীরে শুরু করুন

একদিনে সব শেখাতে যাবেন না। শুরুতে অল্প অল্প করে শেখান। ওর বয়স অনুযায়ী ওর নেওয়ার ক্ষমতাও আপনাকে বুঝতে হবে। আগে বুঝে নিন নিয়ম কানুন, আচরণগুলো ঠিক কতটা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে শিশুর, এরপর আস্তে আস্তে করে শেখান। অতিরিক্ত চাপ দিলে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে, যা শিশুর বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

জাদুকরী শব্দ শেখান

‘ধন্যবাদ’ ‘দু:খিত’ এমন ছোট ছোট জাদুকরী শব্দ শেখান তাকে।   এসব শব্দ কখন কোথায় ব্যবহার করতে হয় সেই শিক্ষাও দিন।

শান্তভাবে বলুন

অযথা রাগারাগি করবেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে শেখান। যেহেতু বয়স অনেকটাই কম, সেক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্ব ও বুঝে নাও উঠতে পারে। তাই ধৈর্য ধরুন । হাল ছাড়বেন না। অযথা রাগারাগি করলে শিশুর অকারণ জেদ চেপে যেতে পারে। এতে উল্টো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

প্রথমেই সেরা আশা করবেন না

শিশুকে সময় দিন। শেখার যেমন কোনও বয়স নেই, তেমন শেখার কোনও শেষও নেই। কাজেই  শিশুর কাছ থেকে আপনি অতিরিক্ত আশা করবেন না। ভাল কাজ, ভাল কথা বলা, এসব শিখতে তাকে খানিকটা সময় দিন। বয়স অনুযায়ী তা বদলাবে। এতে হতাশ হয়ে পড়ার কোনও কারণই নেই। তবে প্রথম ধাপেই আপনার সন্তান আচার আচরণের দিক থেকে সেরা সন্তান হয়ে উঠবে, তা ভেবে নেওয়া বোকামি।

পুরস্কার দিন

আপনার সন্তান যখন কোনও ভাল কাজ করবে বা কথা বলবে, তার বদলে তাকে পুরস্কার দিন, উৎসাহ দিন। এতে ওর মধ্যে ভাল কাজ করার আগ্রহ জন্মাবে। তবে খেয়াল রাখবেন, উপহার যেন অতি ব্যয়বহুল না হয়, এতে বিষয়টি নেশায় পরিণত হতে পারে। খেয়াল রাখবেন, সবটাই যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস