জন্মের প্রথম বছর যেসব খাবার শিশুর জন্য ক্ষতিকর

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জন্মের পর প্রতিটি শিশুর যত্ন নিতে হয়। বিশেষ করে তিন বছর বয়স পর্যন্ত প্রত্যেক শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্নের দরকার হয়। পৃথিবীর সব বাবা-মা তার সন্তানকে সঠিকভাবে যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক বাবা-মা জানেন না, কিভাবে সন্তানের সঠিক যত্ন নিতে হয়, শিশুকে কোন খাবার খেতে দেওয়া উচিৎ এবং কোন খাবার খেতে দেওয়া উচিৎ না।

আমেরিকার শিশু বিশেষজ্ঞরা জানান, চিনি, লবণ, গরুর দুধ, মধু, পপকর্ন, ক্যান্ডি, চুইংগাম, বাদাম, চেরি, গাজর, ডালিম খাওয়ানো ঠিক নয়।

চিনি

এক বছরের কম বয়সী কোন শিশুকে পরিশোধিত চিনি খেতে দেওয়া উচিত না। এ সময় শিশুরা খাবারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক চিনি গ্রহণ করে। পরিশোধিত চিনি খেলে শিশুর দাঁতে সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া তাদের ওজন বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এজন্য তাদের যতটা সম্ভব চকোলেট, ক্যান্ডি, প্রসেস ফুড থেকে দূরে রাখতে হবে। 

লবণ

দুধের শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত লবণ খেতে দেওয়া ঠিক নয়। এ সময় শিশুরা মায়ের দুধ থেকে লবণের চাহিদা পূরণ করে। 

৬ মাস কিংবা ১ বছর বয়স থেকে প্রতিদিন ১ গ্রামের কম লবণ খেতে পারবে। এর চেয়ে কম বয়সে লবণ খেতে দিলে শিশুর কিডনিতে পাথর, উচ্চ রক্তচাপ, ডিহাইড্রেশন এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে পারে।

মধু

মধু পুষ্টিসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার তাতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে প্রাকৃতিক এই মিষ্টিজাতীয় খাবার সদ্যোজাত শিশুর জন্য ক্ষতিকর। মধুতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ১ বছরের বেশি বয়সের শিশু থেকে বৃদ্ধদের জন্য সহনীয়। কিন্তু সদ্যোজাত কিংবা ১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মধুতে ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম নামক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। যা শিশুদের হজমে ব্যঘাত ঘটায়। ব্যাকটেরিয়ার কারণে ৮-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে শিশুর মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এ ছাড়া ৬ মাস বয়সে শিশুর দাঁত ওঠে। প্রাকৃতিক মিষ্টিতে ভরপুর মধু খেলে শিশুর দাঁতের সমস্যা হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। ভুল করে যদি কখনও শিশুকে মধু খাওয়ায় ফেলেন তবে খেয়াল করেন শিশুর মধ্যে অবসন্নতা, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কিংবা ক্ষুধা না থাকার লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে কিনা। এসব লক্ষণ প্রকাশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গরুর দুধ

দুধ পুষ্টিকর খাবার, কিন্তু সদ্যজাতের জন্য নয়। ১ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য গরুর দুধ ক্ষতিকর। কারণ এতে শিশুর হজমে সমস্যা হয়। দুধে বিদ্যমান প্রোটিন, সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম শিশুর শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে না। শিশুকে যতটা সম্ভব মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া