সম্পর্কের সমীকরণ হোক এমন

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০     আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

মিনাক্ষী বিশ্বাস

মডেল :আবুল হায়াত ও মাহফুজা খাতুন শিরীন ছবি :ফ্লোরিডা এস রোজারিও

মডেল :আবুল হায়াত ও মাহফুজা খাতুন শিরীন ছবি :ফ্লোরিডা এস রোজারিও

'লোকে ভুলে যায় দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন তাকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই'- রবীন্দ্রনাথ যখন শেষের কবিতা উপন্যাসে মানব-মানবীর প্রেমের কাহিনি লিখছেন, তখনও তিনি কোনো সরলরৈখিক প্রেমের গল্প লিখে যেতে পারেননি, তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুর্ভুজাকৃতির প্রেমের গল্প। আসলে প্রেম, দাম্পত্য বা যে কোনো মানবীয় সম্পর্কই হয়তো সরলরৈখিক নয়। এতে বিচ্ছেদ, অভিমান, বিরহ তো থাকবেই। তবে সম্পর্ক যাপন করতে পারা আর তাকে প্রতিদিন নতুন করে উপলব্ধি করতে পারা অবশ্যই একটি শিল্প।

একুশ শতকে দাঁড়িয়ে আমরা যখন ভীষণ গতিশীল জীবনযাপন করছি, তখন আমাদের কাছে সম্পর্কের সমীকরণগুলো কি আরও বেশি জটিলতর হয়ে উঠছে? আধুনিক সভ্যতার প্রভাবে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলোর জটিলতা বুঝতে কি আমাদের প্রয়োজন ভিন্নতর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্নেষণ? আমরা চারপাশে এখন হরহামেশা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার নানা গল্প শুনি। দাম্পত্য কলহ, দাম্পত্য বিচ্ছেদ শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি পরিচিত হচ্ছি।


বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে চলি, কিন্তু পুরোনো বন্ধুত্বটাকে নতুন করে ঝালাই করে নেওয়াতে আমাদের কেমন যেন অনীহা। তবে সুখের কথা এই যে, কিছু কিছু দাম্পত্য সম্পর্কের দিকে তাকালে আমাদের এসব ধারণা পাল্টে যেতেই পারে। তাদের দিকে তাকালে আমরা উপলব্ধি করতে পারি, মানুষের জীবন তখনই সুন্দর যখন তা ভালোবাসায় মোড়ানো। তারা পাড়ি দিয়েছেন দীর্ঘ ভালোবাসার পথ, একে অপরের পাশাপাশি হাঁটছেন বহুদিন ধরে, তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম সম্পর্ক কী করে সহজ ও সুন্দর রাখতে হয় এর রহস্য।

তারা বলেন, একটি সম্পর্কের ওপর সূর্যকিরণ প্রতিদিন সমানভাবে আলো দেয় না, তবে প্রখর রোদের দিনগুলোতে ছাতাটা ভাগ করে নেওয়া জানতে হয়। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্তকে গুরুত্ব দিন। একে অপরের শখ ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে সহায়ক হন। মতামতকে গুরুত্ব দিন, সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতি অন্য কোনো উপায়ের বদলে সরাসরি নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে, তাদের সমস্যা অনেকটা কম হয়। সম্পর্ককে সময় দিন বলতে আমরা বেশিরভাগ সময় বুঝি একে অপরের সঙ্গে বেশি বেশি সময় কাটান; কিন্তু তারও চেয়ে বেশি জরুরি হলো মনোমালিন্য বা মতের অমিল হলেই কোনো সিদ্ধান্তে চলে যাবেন না, বরং সময় নিন ও একে অপরকে বুঝুন। অনেক সময় আমরা এসব কিছুর মাঝে নিজেকে সময় দিতে ভুলে যাই। কিন্তু একটা সুস্থ সম্পর্কের জন্য নিজেকে সম্মান করা সবচেয়ে জরুরি। আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি, যাকে আমরা ভালোবাসা দিবস বলি, এমন একটি দিনকে উপলক্ষ করে সারাদিনটা সাজিয়েই ফেলতে পারি প্রিয়জনকে উপলক্ষ করে। যদিও ভালোবাসতে কোনো নির্দিষ্ট দিবস লাগে না, তবুও ভালোবাসা উদযাপনের ক্ষেত্রে হতেই পারে দিবস একটি উৎকৃষ্ট বাহানা। এই ১৪ ফেব্রুয়ারি আমরা রাখতেই পারি প্রিয়জনের জন্য কিছু নিজস্ব সময়।

ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম সুন্দর মাধ্যম হতে পারে চিঠি। ভালোবাসা দিবসের সকালে প্রিয় মানুষের জন্য একটা চিঠি লিখুন। প্রিয় মানুষের প্রিয় ফুল আর সঙ্গে আপনার হাতে লেখা একটা চিঠিতেই শুরু হোক একটি স্নিগ্ধ ভালোবাসার সকাল। দুপুরের আলস্যে দু'জনে কাটান কিছু নিজস্ব সময়। দু'জন মিলেই রান্না করুন একে অপরের প্রিয় খাবার। পাশাপাশি বসে শুনতে পারেন একে অপরের প্রিয় গান। পুরোনো দিনের ছবির অ্যালবাম বের করে দেখতে পারেন দু'জন মিলে, সুন্দর স্মৃতির পথ ধরে হাঁটার অবকাশ কি আর আমাদের রোজ মেলে? বিকেল বেলা ঘুরে আসুন কোথাও থেকে। পরনে থাকতেই পারে প্রিয় মানুষের পছন্দের পোশাক। আর ব্যস্ততম নগরীর যানজটে আপনার বের হতে যদি একান্তই ইচ্ছা না করে, তাহলে বারান্দায় বসে এক কাপ চা হাতে একটা জমজমাট আড্ডা তো হতেই পারে। প্রিয় বই, প্রিয় সিনেমা নিয়ে কথা বলুন। পাশাপাশি হাঁটুন, প্রিয় মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন ও একে অপরের কথা শুনুন। দীর্ঘ দাম্পত্য সম্পর্কে যেটা আমরা হরহামেশা ভুলে যাই, সেটা হলো একে অপরের বন্ধু হয়ে থাকতে, তাই বন্ধুত্বের চর্চাটা আজ থেকেই শুরু করুন। দাম্পত্য হয়ে উঠুক একটি দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের সম্পর্ক। দাম্পত্য যদি শিল্প হয়, তবে তা নিজের মতো করেই সৃষ্টি করুন। আর হ্যাঁ, আজ প্রিয়জনকে 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' বলতে ভুলবেন না কিন্তু। ভালোবাসায় প্রকাশ কখনও কখনও ভীষণ জরুরি।