করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে ঘরে শুয়ে বসে কাটাচ্ছেন, ঠিক আছে। তবে গরম লাগলেই এসি ছেড়ে শীতল করে নিচ্ছেন শরীর, তাতে কিন্তু বিপদ আসতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, এসির ঠান্ডায় করোনার স্থায়িত্ব বেড়ে যায়। আর তাপমাত্রা বাড়তি থাকলে করোনাও কুুপোকাত। গবেষকদের এমন মতামতের পর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বুঝেশুনে এসি চালানোর নির্দেশনা জারি করেছে ভারত সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৪-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে হবে। ২৪ এর নিচে নামা যাবে না। ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব হিটিং রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনার ইঞ্জিনিয়ার্স এ নিয়ে একটি গাইডলাইন দেওয়ার পর এসি ব্যবহারে নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। খবর এনডিটিভির

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো করোনাভাইরাস ভারতেও মহামারী রূপে দেখা দিয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ৮শ’ মানুষ। আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩৬ হাজার।  করোনা ভাইরাসকে রুখতে সারাদেশে লকডাউনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তার মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া সংক্রান্ত বিশ্লেষণ।

এই বিশ্লেষক দলে রয়েছেন শিক্ষাবিদ, ডিজাইনার, নির্মাতা, পরিষেবা প্রদানকারী, স্বাস্থ্য সুবিধা এবং বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ বায়ু মানের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরাও। তাদের সমীক্ষা অনুসারে, করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে শীতাতপনিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের  নিচে নামানো যাবে না। কারণ ঠান্ডায় করোনা ভাইরাস টিকে থাকবে বেশি সময় এবং এসি চালানোর সময় জানালাগুলো কিছুটা খুলে রাখা উচিত।

গবেষকরা বলছেন, তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে এবং আর্দ্রতা ৮০ শতাংশের বেশি হলে করোনা ভাইরাসের স্থায়িত্ব কমে যায়। অন্যদিকে ৪-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ ভাইরাসের স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে করোনা ১৪ দিন থাকে এবং ৩৭ ডিগ্রিতে করোনা একদিন টেকে। আর ৫৬ ডিগ্রিতে থাকে আধাঘণ্টা। তাই বুঝেশুনে এসি চালানোর পরামর্শ তাদের। 

 বিজ্ঞানীদের মতে, ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে এসি চালালে ঘরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং ঘরের মধ্যে কোনো জীবাণু থাকলে তা বাইরে যেতে পারে না। তাই এসি চালানোর সময়ে অল্প করে হলেও জানালা খুলে রাখতে হবে।