লকডাউনে সন্তানের অস্থিরতা সামলাবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২০     আপডেট: ২৩ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ। বন্ধু-বান্ধব কারও সঙ্গে দেখা নেই। খেলাধূলাও বন্ধ। এদিকে অনলাইন ক্লাস আর হোমওয়ার্কের চাপ আছে। অন্যদিকে আবার হোম অফিসের কারণে বাবা-মাও সবসময় বাড়িতে থাকছেন। তাই চাইলেও শিশুরা নিজেদের মনের মতো সময় কাটাতে পারছে না।

বাবা-মায়ের নির্দেশে সময়মতো ঘুম, খাওয়া- দাওয়া, করতে হচ্ছে তাদের। বেশিক্ষণ টিভি দেখা কিংবা খেলাধুলাও হচ্ছে না শিশুদের। চাইলেও বাইরে বের হতে কিংবা  বাইরের খাবার খেতে পারছে না। সব মিলিয়ে শিশুদের ওপর বেশ মানসিক চাপ পড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে অস্থিরতাও।  বিভিন্ন আচরণের মাধ্যমে তাদের এই অস্থিরতা প্রকাশ পাচ্ছে। এতে বাবা-মায়ের ওপরও চাপ পড়ছে।  মনোবিদরা বলছেন, শিশুদের শান্ত রাখতে প্রথমে প্রয়োজনে নিজের ব্যবহারে পরিবর্তন আনুন। সেই সঙ্গে আরও কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

১. যা করবেন, তার বেশ কিছুটা সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করে করুন। তার মতামত অগ্রাহ্য করে সবসময় নিজের মত চাপালে হিতে বিপরীত হতে পারে।

২. সন্তানের সঙ্গে কথা বলে একটা রুটিন ঠিক করুন। কত ক্ষণ সে পড়বে, টিভি দেখবে,  গেম খেলবে আর আপনার কাজে সাহায্য করবে এটা তার সঙ্গে আলোচনা করুন। একই ভাবে তার ঘুমাতে যাওয়া, সকালে ওঠা, হালকা ব্যায়াম ও কোনও শখের চর্চা কখন কত ক্ষণ ধরে করবে সে, তারও একটা কাঠামো ঠিক করে নিন। রুটিন না মানলে তার সঙ্গে আবার আলোচনা করুন। এতে অশান্তি কমবে, সে নিজের দায়িত্বও নিতে শিখবে। সব সময় শিশুদের বকাবকি করা ঠিক নয়।

৩. সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করুন। নিয়ম মানলে তাকে আনন্দ দেয় এমন কিছু উপহার দিন বা পছন্দের খাবার বানিয়ে খাওয়ান। তার ভিডিও গেম বা টিভি দেখার সময় আধ ঘন্টা বাড়িয়ে দিন। এতে সে উৎসাহিত হবে। 

৪. রুটিনের ব্যাপারে সন্তান হয়তো প্রথমে রাজি হবে তারপর তার উৎসাহ কমে যেতে পারে। তাই ধৈর্য ধরুন। বকাঝকা না করে নিয়মিত তাকে বিষয়গুলি মনে করিয়ে দিন। এতে তার মধ্যে আস্তে আস্তে একটা পরিবর্তন আসবে।

৫. তার কোনও বিশেষ চাহিদা থাকলে আগেই না করবেন না। বরং তার কথা শুনুন। তার ক্ষতি না হলে চাহিদা অনুযায়ী তা পূরণের চেষ্টা করুন।

৬. কখনও অন্যের সন্তানের সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করবেন না। তারই কোনও বন্ধু বা প্রতিবেশী শিশু কত ভালো করে পড়ছে, বা কাজ করছে এগুলো বলে তার মন ছোট করবেন না। এতে লাভ না হয়ে বরং শিশুর ক্ষতিই হবে।