ঘন ঘন কফি পান কি ভালো না খারাপ?

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

দিনের ক্লান্তি কাটাতে, হালকা গান শুনতে শুনতে কিংবা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে অনেকেই কফি খেতে পছন্দ করেন। এক সময় মনে করা হত কফি খেলে হৃদরোগের সমস্যা হয়, রক্তচাপ বাড়ে, ঘুম নষ্ট হয়। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কফি খাওয়া হৃদরোগের জন্য খারাপ নয় বরং কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভালো।

উচ্চ রক্তচাপের জন্যও কফি খারাপ নয়। আবার দিনে দু বার চিনি ছাড়া কালো কফি খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে ওজন কমারও সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া ব্যায়ামের আগে কফি খেলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ব্যায়াম করা যায়। কফি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

২০১২ সালে সার্কুলেশন, হার্ট ফেলিওর নামের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যারা দিনে ৪ কাপের মতো কফি খান, তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা সবচেয়ে কম।

মেয়ো ক্লিনিকের গবেষকদের মত, অভ্যাস না থাকলে হঠাৎ করে কফি খেতে শুরু করলে ক্যাফেইনের প্রভাবে হৃৎপিন্ড ও রক্তনালি উদ্দীপিত হয়ে রক্তচাপ সাময়িক একটু বাড়তে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে সে প্রভাব কেটে যায়। অর্থাৎ কফি খেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় বলে যে ধারণা ছিল, তা ঠিক নয়।

আগেকার দিনে ভাবা হত রক্তচাপ বেশি থাকলে কফি না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইনের প্রতি যাদের অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা আছে, তাদের কখনও কখনও এ রকম হলেও অন্যদের কিছু হয় না।

কফি বিনে এমন কিছু ফাইটোকেমিক্যাল আছে যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে তা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফিতে কারও কারও সমস্যা হয়। এর মূলে আছে কফির অন্যতম উপাদান ক্যাফেইন। তার পরিমাণ যদি কোনওভাবে কমানো যায়, তাহলে এ সমস্যা থাকে না। বাজারে বিভিন্ন ধরনের কফি পাওয়া যায়। একটু খুঁজলেই এ ধরনের কফি পেতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের মনে হয় কফি খেলে রক্তচাপ বাড়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঘরে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখতে পারেন। দু–চার সপ্তাহ ধরে কফি খাওয়ার আগে ও খাওয়ার দু–এক ঘণ্টা পর রক্তচাপ মেপে তা লিখে রাখুন। এরপর কয়েক সপ্তাহ কফি খাওয়া বন্ধ রেখে ওই একই সময় রক্তচাপ মেপে পার্থক্য লক্ষ্য রাখুন। তাহলেই বুঝতে পারেন কফিতে সমস্যা হয় কি-না। সেক্ষেত্রে কফি খাওয়া বন্ধ করতে পারেন।

বিষয় : খাবার কফি