বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে সুন্দর ত্বকের ওপর। তাই ত্বকের যত্ন নেওয়া উচিত সবার প্রথমে। আসছে গ্রীষ্মকাল। রোদের এই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন কিছু ঘরোয়া ত্বকের যত্নআত্তির উপায়। ঘরোয়া উপায় বললেই প্রথমে যে উপকরণ আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে লেবু। উপটান থেকে শুরু করে ফেসপ্যাক, স্ক্রাব এমনকি লিপ স্ক্রাবার বানাতেও লেবুর প্রয়োজন অপরিসীম। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভিটামিন-সিযুক্ত এই ফলের জুড়ি নেই, ঠিক তেমনটিই বর্তায় রূপচর্চার ক্ষেত্রেও। রইল লেবু দিয়ে রূপচর্চার কিছু টিপস-

ফেস স্ক্রাব
একটি লেবুর অর্ধেক টুকরা নিয়ে রসটুকু বের করে নিন। এরপর এর সঙ্গে ৮-১০ চামচ দুধ মেশান। কৌটার দুধ হলে বেশি ভালো। এরপর যে প্রলেপটি তৈরি হবে তা মুখে মাখুন। হাতের আঙুলের সাহায্যে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন এবং ১৫ মিনিটের মতো রেখে দেবেন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার ত্বক উজ্জ্বল হবে এবং মরা কোষগুলোও আর থাকবে না।

লিপ স্ক্রাবার
ঠোঁট ফেটে যাওয়া কিংবা শুস্ক হয়ে যাওয়ার বিপত্তিটা যদিও শীতকালে বেশি হয়। তবে শীতকাল পেরিয়ে যাওয়ায় এখন এই সমস্যা না থাকলেও যত্ন তো সব ঋতুতেই নেওয়া উচিত। ঠোঁট মসৃণ এবং কোমল করতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সহজেই ঘরে বসে চটজলদি বানিয়ে নিতে পারেন একটি লিপ স্ক্রাবার। ঠোঁটে লাগিয়ে ১০ মিনিটের মতো আলতো হাতে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ব্যবহারে অযাচিত কালো দাগও মুছে যাবে।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে
গরমকালে তৈলাক্ত ত্বকের মানুষদেরই ভুগতে হয় সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত ঘামের কারণে ত্বক হয়ে যায় চিটচিটে ও বিরক্তিকর। এরও আছে সমাধান। একটি লেবুর অর্ধেক অংশ থেকে রস বের করে নিয়ে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন সমপরিমাণের শসার রস। তারপর মিনিট দশেক মুখে মেখে রাখুন। টান টান অনুভূত হলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেবেন। এতে করে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হবে। এমনকি লোমকূপে ময়লাও জমে থাকতে পারবে না।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে
উজ্জ্বল ও জেল্লাদার ত্বক সবার কাছেই বহু প্রত্যাশিত এক বিষয়। এ ক্ষেত্রেও লেবু হতে পারে সহযোগী। অর্ধেকটা লেবুর রস নিয়ে এতে কিছুটা মধু মিশিয়ে মুখে মাখুন এবং শুকানোর পর ধুয়ে ফেলুন। লেবুর ভিটামিন-সি'র গুণ তো আছেই। মধুও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। সপ্তাহে দু-তিন দিন ব্যবহারে পেতে পারেন ভালো ফল।

ব্যাকটেরিয়া ও দূষণ প্রতিরোধে সহায়ক
রোজকার দূষণ ও ব্যাকটেরিয়া থেকে ত্বককে বাঁচাতেও কাজে আসে লেবু। এর ভিটামিন-সি তো অনেক রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়াও এতে আছে বিভিন্ন অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। নারিকেল তেলেও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান আছে। তাই কয়েক ফোঁটা নারিকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগালে তা এসব ব্যাকটেরিয়া দমনে ভালো কাজে দেয়।

নখের যত্ন
নখের যত্নেও লেবুর তুলনা মেলা ভার। এমনকি অনেক সময় দেখা যায় রান্নাঘরের বিভিন্ন রকম কাজ করতে গিয়ে হাতে কালো দাগ পড়ে যায়; এক টুকরা লেবু হাতে ঘষে নিলেই দাগ সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়। নখ অপরিষ্কার হয়ে গেলেও এটিই সবচেয়ে সহজ সমাধান। তবে লেবুর রস বেশ অ্যাসিডিক। এর পিএইচপি মান আমাদের ত্বকের পিএইচপি মানের খুব কাছাকাছি। অনেকের ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক সময় ত্বকে র‌্যাশ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত লালচে দাগ এনে দিতে পারে। তাই মুখের ত্বকে লাগানোর আগে অবশ্যই লেবুর রস ব্যবহূত হয়েছে এমন ফেসপ্যাক বা স্ক্রাবার হাতের ত্বকে লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন যে জ্বালা করছে কিনা। জ্বালা করলে অবশ্যই তা মুখের ত্বকে ব্যবহার করবেন না।

মন্তব্য করুন