দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করেই বড় হয়েছেন মোছা. জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নী। তবে অভাব দমাতে পারেনি অদম্য এ মেধাবীকে। কষ্টের মধ্যেও চালিয়ে গেছেন পড়ালেখা। এ কষ্টের সুফল পেয়েছেন মুন্নী। এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে পরিবারের সবাই খুশি। একই সঙ্গে দুশ্চিন্তাও ভর করেছে তাদের মনে। এখন কীভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হবেন মুন্নী? মেডিকেলে পড়ার খরচ জোগাড় হবে কীভাবে?

জীবন সংগ্রাম করে আসা মুন্নীর বাড়ি পাবনার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামে। তার বাবা বাকীবিল্লাহ পেশায় ভ্যানচালক। চার ভাইবোনের মধ্যে মুন্নী সবার বড়। নিজেদের সম্পত্তি বলতে দুই কাঠা জমিতে ছোট একটি টিনের ঘরই সম্বল। 

এ বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মুন্নী। তিনি পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

মুন্নী বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার শিক্ষাজীবনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা দারিদ্র্য। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় টাকার অভাবে একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব বই কিনতে পারতাম না। একটা একটা করে বই কিনতাম। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর এখন খুব চিন্তা হচ্ছে। কীভাবে জোগাড় হবে আমার পড়া ও দিনাজপুরে থাকা-খাওয়ার খরচ। এত টাকা আমার দরিদ্র বাবা কোথায় পাবেন?

মুন্নীর বাবা বাকীবিল্লাহ বলেন, একটি এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ভ্যান কিনি। ভ্যান চালিয়ে দিনে যে দুই-তিনশ টাকা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলছে। স্বপ্ন দেখি আমার মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাতে পারব কিনা জানি না।

পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও বিগত ৩৬ বছরে এই বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পায়নি। এবার মুন্নী সে সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে মুন্নীর ডাক্তারি পড়া আটকাবে না।