হঠাৎ করোনার ঊর্ধ্বগতির ফলে দেশের হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে বাড়তি চাপ। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে করোনা আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্বের করুণ দৃশ্য। সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ শয্যা যেন এখন হয়ে উঠেছে 'সোনার হরিণ'। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতাল ঘুরে কোথাও অক্সিজেন ব্যবস্থা করতে না পেরে অতঃপর মুগদা হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান রায়হান নামে এক যুবকের মা। মায়ের আহাজারির এমন করুণ দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। করোনার এমন সংকট সময়ে কে দেখে কার দুর্ভোগ! প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের সবক'টা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল যেন ধীরে ধীরে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠছে। আইসিইউ ও সাধারণ শয্যা সংকটে চিকিৎসা না পেয়েই মারা যাচ্ছেন একের পর এক করোনা রোগী। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে চারপাশ। কিন্তু কেন চিকিৎসাসেবা পেতে এত দুর্ভোগ? বর্তমান কভিড পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবার দুর্ভোগের চিত্র সাধারণ মানুষকে চিন্তায় ফেলছে।
কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশের জন্য আইসিইউ সুবিধা প্রয়োজন। কিন্তু শয্যা সংকটে রোগীদের ঠাঁই হচ্ছে না হাসপাতালগুলোতে। একটি আইসিইউ পেতে হন্যে হয়ে স্বজনরা ঘুরছেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে আইসিইউ হাহাকার।
একদিকে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সংকট ও চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তি, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষকে সর্বস্বান্ত করে তুলছে। হাসপাতালের আইসিইউর সামনে গেলে দেখা যায়, স্বজনদের দিন-রাত কঠিন অপেক্ষা। আইসিইউর বিল লাখ লাখ টাকাও অর্থহীন হয়ে পড়ছে এ অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে।
করোনাকে অবহেলা না করে আত্মসচেতনতা বাড়াতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ আমাদের দেশে সামাজিক দূরত্ব ও শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে একদিকে যেমন করোনা বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রোধ করা সম্ভব, অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ হাহাকার ও স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ দেখতে হবে না।
চট্টগ্রাম
arifulislam58702@gmail.com

মন্তব্য করুন