প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল চলছে। এই সময় অনেকেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি সারাতে ওষুধের পাশাপাশি চা-ও বেশ উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন চা পান করেন তারা দীর্ঘ সময় ধরে সুস্থ থাকেন। চা কেবল একটি সতেজ পানীয় নয় এটি বিভিন্ন উপায়ে স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী। চায়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এতে কফির চেয়ে কম ক্যাফেইন থাকায় এটি ওজন কমাতেও সহায়তা করে। কয়েক ধরনের চা আছে যেগুলি সর্দি-কাশি ছাড়াও শরীরের নানা রোগ নিরাময়ে ভূমিকা রাখে। যেমন-

আদা চা : নিয়মিত আদা চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে। এছাড়াও এটি কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন আগের থেকে বৃদ্ধি করে। সর্দি কাশির সময় সামান্য আদার গুনে উপশম পাওয়া যায়। আদা কেটে অথবা গুঁড়ো করে রস বার করে খাওয়া যায়। তবে স্বাদ বাড়ানো ছাড়া অনেক ওষুধি গুণ রয়েছে আদার। গরম চায়ের সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আদাতে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন-প্রক্রিয়া উন্নত করে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে। পাশাপাশি আদার রস ধমনিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়। ফলে প্রতিদিন আদা-চা পান খেলে হৃদরোগে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

গ্রিন টি : গ্রিন টি বিভিন্ন উপায়ে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই চা রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং হজম উন্নত করে। গ্রিন টি কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক কাপ থেকে দু কাপ গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যকর। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গ্রিন টি নিয়মিত খেলে ত্বক, চুল সবই ভালো থাকে।

ক্যামোমাইল টি : ভেষজ চা-এর মধ্যে অন্যতম হল এই ক্যামোমাইল টি। একরকম ফুল থেকে তৈরি হয় এই চা। যার ফলে এই চায়ের মধ্যে ক্ষতিকর ক্যাফেইন থাকে না। এই চা খেলে স্নায়ুর উত্তেজনা কম থাকে, ঘুম ভালো হয়।

পুদিনা চা : পুদিনা গাছের মূল, পাতা, কাণ্ডসহ গোটা গাছই ওষুধিগুণে পরিপূর্ণ। এর পাতা সুগন্ধি হিসাবে রান্নায় ব্যবহার করা হয়। পুদিনার মধ্যে থাকা মেন্থল খুবই উপকারী। তাই লিকার চায়ের মধ্যে পুদিনা পাতা মিশিয়ে খানিকক্ষণ ঢেকে রেখে খেলে ভালো উপকার পাবেন। তার আগে অবশ্য আদা দিয়ে পানিটা ফুটিয়ে নিলো ভালো হয়।

জবা ফুলের চা
: জবা ফুলের চা পুষ্টিকর একটি পানীয়। এটি উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা কমায়। একই সঙ্গে হজমের সমস্যাও দূর করে। লিভারের রোগ সারাতেও জবা ফুলের গুণের তুলনা নেই। এমনকী ক্যান্সারের প্রবণতা কমাতেও দারুণ উপকারী জবা ফুলের চা। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, খনিজ এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। উদ্বেগ ও উদ্দীপনা কমাতেও প্রভাব রয়েছে জবা ফুলের চায়ের। এটি ঠান্ডা বা গরম- সবভাবেই খাওয়া যায়। এই চায়ে কোনও রকম ক্যাফেইন থাকে না। এজন্য এই চা শরীরের পক্ষে এটি খুবই উপকারী হয়।

বিষয় : ভেষজ চা সর্দি-কাশি বর্ষা

মন্তব্য করুন