লকডাউনের নামে জনগণের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘কোথাও লকডাউন কাজ করছে না। যার যেখানে খুশি যাচ্ছে, যা খুশি করছে। এমনকি বিয়েও হচ্ছে। এটা সরকারের পুরোপুরি উদাসীনতা। সরকারের ঘোষিত লকডাউন শুধুমাত্র লোক দেখানো একটা ব্যাপার। এর মাধ্যমে তারা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং নাটক করছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকাসহ ৭ জেলায় করোনা সংক্রমনের ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যাদের এই লকডাউন বাস্তবায়ন করার কথা সেই আনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আজকাল দেখা যায় না। লকডাউন বাস্তবায়নে তারা কোথাও দৃশ্যমান নয়।’

এনআইডির কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়া দুরভিসন্ধিমূলক বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এনআইডি প্রকল্পের বিষয়ে ইসি চিঠি দেওয়ার পরেও দুই লাইনের একটা চিঠি দিয়ে সরকার সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এটা একটা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়েও সরকার একটা চক্রান্ত করছে। যাতে জনগণের পরিচয় এবং তাদের ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমরা এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি। সরকারকে তার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি কথা যে, পরিচয় পত্র দেওয়ার ব্যাপারটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে পরিস্থিতিটা সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে আওয়ামী লীগ এটা পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করবে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, নির্বাচন কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর সাথে যারা জড়িত, এনজিও যারা আছেন তারা সবাই বলছে যে, এটা কোনো মতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে যাওয়া উচিত নয়।’

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নেই দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০২০ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রায় ১১ শতাংশ কমে ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে- এখানে বিদেশিদের বিনিয়োগ করার কোনো পরিবেশ নেই। এখানে যখন কেউ বিনিয়োগ করতে আসে তখন দুঃশাসন, দুর্নীতির কারণে তাকে কেঁদে কেঁদে সব ফেলে চলে যেতে হয়। অথচ সরকারের ঢোল সবসময় বাজছেই যে, এখানে উন্নয়ন-উন্নয়ন হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নটা কোথায়? কয়েকটা ব্রিজ তৈরি করা, কয়েকটা উড়াল সেতু তৈরি করাকে উন্নয়ন বলে না। যেটাতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, অভাব কমে সেটাই হচ্ছে উন্নয়ন। যেখানে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়ে গেছে দুই কোটি সেখানে কোন যুক্তিতে উন্নয়ন বলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘অনেক সেক্টর আছে যেখানে বাংলাদেশের প্রচণ্ড রকমের সম্ভাবনা আছে। এখানে ফার্মিসিউটিক্যালসের বিশেষ করে এই মুহুর্তে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ একটা পটেনশিয়াল একটা জায়গা। তারপরেও সরকার এ বিষয়ে আগ্রহী না। আমরা মনে করি, অবিলম্বে বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ করা উচিত এবং এখানে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দলের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।