অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে খুলনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার কমিশন এই চার্জশিটের অনুমোদন দিয়েছে। দুদক পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ শিগগির আদালতে চার্জশিটটি জমা দেবেন।

চার্জশিটে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, দুদকে পেশ করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ২০ লাখ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন।

২০১৯ সালের ৭ আগস্ট জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। প্রায় দুই বছরের তদন্ত শেষে চার্জশিট জমা দেওয়া হচ্ছে। মামলায় যে পরিমাণ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল, চার্জশিটে একই পরিমাণ টাকার অবৈধ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, এমপি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ দখলে রাখায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় চার্জশিটটি দাখিল করা হচ্ছে। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটার কৃষ্ণনগর মৌজায় ৯০ শতাংশ জমির মূল্য দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করে পরে ২০ লাখ টাকায় দলিল সম্পাদন করেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে জমি কেনার এই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, এমপি থাকাকালে প্রভাব খাটিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য অফিসের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মিজানুর। এছাড়া তার নামে-বেনামে বাড়ি, গাড়িসহ অন্যান্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। গত বছরের ১৬ এপ্রিল মিজানুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।