ওজন হ্রাস পেয়েছে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের। ৩৭ বছর বয়সী কিমকে এখন আগের চেয়ে অনেক সুদর্শন দেখালেও দেশটির জনগণ তার বর্তমান অবস্থাকে ভালভাবে নিতে পারছেন না। কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্থানীয় এক জনের বরাত দিয়ে এমনটা জানিয়েছে। এর মাধ্যমে কিমের ওজন হ্রাস সম্পর্কে বিদেশিদের যে অনুমান, তার সত্যতা মিলেছে। খবর আল জাজিরার।

উত্তর কোরিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে সর্বোচ্চ নেতার স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জনসমক্ষে আলোচনা প্রায় নিষিদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এখন এধরনের অস্বাভাবিকভাবে বিরল খবর প্রচারের মাধ্যমে দেশটিতে করোনা মহামারি, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফলে কিমের প্রতি ঘরোয়া সমর্থন বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার এক ব্যক্তির বরাতে জানিয়েছে, ‘আমাদের নেতার এই কৃশ শরীর দেখে আমাদের বুক ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের সবার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।’

সম্প্রতি কিমের প্রকাশিত ছবিগুলো দেখে মনে হয়েছে, ‘৫ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা কিমের ওজন কিছুটা কমেছে। এর আগে তার ওজন ছিল ১৪০ কেজি। কিমকে তখন মারাত্মকভাবে স্থূলাকার দেখাত। পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, তিনি কম পক্ষে ১০ থেকে ২০ কেজি ওজন হারিয়েছেন।’

বিশ্লেষকরা বলেছিলেন রাষ্ট্রীয় টেরিভিশনে এধরনের খবর প্রচার করার মাধ্যমে কিমের প্রতি জনসমর্থন বাড়ার কথা বোঝানো হচ্ছে। জনগণকে এটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, দেশে নানারকম সমস্যা মোকাবিলায় তাদের নেতা অনেক পরিশ্রম করছেন এবং তা তার স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। মূলত কিমকে জনগণের কল্যাণে একজন ‘নিবেদিতপ্রাণ কর্মী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।