সাগরে ইলিশ নিধনে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শুক্রবার রাত ১২টায়। এরপর থেকেই সাগরে ইলিশ ধরা শুরু করবেন জেলেরা। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তারা নদী-সাগরে বাধাহীনভাবে ইলিশ ধরার সুযোগ পাবেন।

সে হিসেবে আগামী আড়াই মাস হচ্ছে ইলিশের ভরা মৌসুম। সীমিত সময়ের এ সুযোগ কাজে লাগাতে উপকূলের জেলে ও মৎস্য মোকামগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যদিও ক্যালেন্ডারের হিসাবে গত ১ জুলাই থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে।

উপকূলের বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে, অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষাই করেননি। এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক জেলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অনৈতিক চুক্তি করে ইলিশ নিধনে সাগরে নেমে গেছেন।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আনিছুর রহমান সমকালকে বলেন, গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাছ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২০ মে শুরু হয়েছিল; শুক্রবার মধ্যরাতে তা শেষ হবে। পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে ইলিশের প্রজনন মৌসুম আশ্বিন মাসের (সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ) পূর্ণিমার আগে ও পরে মোট একমাস। এরমধ্যে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় জেলেরা বাধাহীনভাবে আড়াই মাস ইলিশ ধরতে পারবেন। এ সময়টুকু ইলিশের সবচেয়ে ভরপুর মৌসুম বলেও জানান আনিছুর রহমান।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশালের মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীতে পানি বাড়লে পেটে ডিম থাকা ইলিশ ঝাঁকে ঝাঁকে সাগর ছেড়ে নদীর দিকে ছুটে। তখনই জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

ড. বিমল বলেন, বিগত বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টি কিছুটা বেশি হয়েছে, তবে সাগর ছেড়ে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর দিকে ইলিশের ঝাঁক আসার মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি এখনও হয়নি। যে কারণে নদ-নদীতে এখনও কম পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন জেলেরা।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার পূর্ণিমা হওয়ায় নদ-নদীতে পানি বাড়বে। সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিও হচ্ছে। এ কারণে কয়েকদিন পরে বেশি সংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ার সম্ভবনা আছে।