মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় অভিযানে মিনি বারের সন্ধান পেয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা, যেখানে নিয়মিত ‘ঘরোয়া আয়োজন’ হত।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে পরীমণিকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শামসুন নাহার স্মৃতি (স্মৃতিমনি বা পরীমণি) ২০১৬ সাল থেকে অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে পড়েন।  তার ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন করে থাকেন। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের চাহিদা মেটানোর লক্ষে বাসায় একটি মিনিবার স্থাপন করেছেন। মিনি বার থাকায় তার ফ্ল্যাটে ঘরোয়া পার্টি আয়োজন পরিপূর্ণতা পেত। 

খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তারকৃত মো. নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করত এবং পার্টিতে অংশগ্রহণ করত বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। 

রাজধানীর বনানী থেকে মাদকসহ আটক চিত্রনায়িকা পরীমণি ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে র‌্যাব।

পরীমণির বাসা থেকে অবৈধ বিদেশি মদ, এলএসডি, আইস এবং এসব সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। পরীমণিকে এখন নানা অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরীমণিকে আটকের পর বুধবার রাতে বনানীর ৭ নম্বর রোডে প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, পরীমণিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নজরুল ইসলাম রাজের নামটি সামনে আসে। তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পরীমণির। একাধিক সময় ফেসবুক লাইভে কথা বলার সময় রাজ অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন। 

নজরুলের সঙ্গে পরীর সখ্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, পরীমণি পিরোজপুরের কলেজে ( এইচএসসি) জীবনে অধ্যায়ণরত অবস্থায় চিত্র জগতে প্রবেশ করে। তিনি ২০১৪ সালে চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩০টি সিনেমা এবং ৫-৭ টি টিভিসিতে অভিনয় করছেন। পিরোজপুর হতে ঢাকায় এসে চিত্র জগতে একটি দৃঢ অবস্থান তৈরিতে গ্রেপ্তারকৃত মো. নজরুল ইসলাম রাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। 

নজরুল ইসলাম রাজ সম্পর্কে খন্দকার আল মঈন জানান, রাজ ১৯৮৯ সালে খুলনার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন বলে দাবি করেন। অতঃপর সে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি শোবিজ জগতেওর তার অনুপ্রবেশ ঘটে। 

তিনি বলেন,এর আগে র্যা বের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানের সহযোগিতায় ১০-১২ জনের একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তুলছিলেন রাজ। এই সিন্ডিকেট রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে গুলশান,বনানী, বারিধারায় বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানা ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ ব্যবস্থা করতেন।

উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে তুমুল আলোচনার জন্ম দেন অভিনেত্রী পরীমণি। নাসিরকে আসামি করে সাভার থানায় মামলাও করেছিলেন তিনি। সিনেমার গল্পের মতো বুধবার কাহিনিতে নতুন মোড় চলে আসে। হঠাৎ করেই রাজধানীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমণিকে আটক করে র্যা ব। এরপর জানায়, তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি মদ ও ভয়ংকর মাদক এলএসডি পাওয়া গেছে।

নায়িকা পরীমণি ও প্রযোজক রাজের বাসায় অভিযান এবং তাদের গ্রেপ্তার বিষয়ে র‌্যাব সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলন

Posted by Samakal on Thursday, August 5, 2021