একসময় বলা হতো, রক্তচাপ বেশি থাকলে কফি না খাওয়াই ভালো। কারণ তাতে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণা জানিয়েছে, ভিন্ন কথা। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে পরিমিত পরিমাণে কফি খেলে নানা উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে খুবে বেশি পরিমাণে বা অতিরিক্তি চিনি দিয়ে কফি খাওয়া ঠিক নয়।

কফির উপকারিতা : কফি খুবই কার্যকরী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এক কাপ কফি মনকে অনেকটাই চাঙা করে দেয়। সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও অনেক প্রখর করে তোলে। কফি পানের অভ্যাস থাকলে মানসিকভাবেই সতেজ করার পাশাপাশি এটি শরীরে প্রচুর পরিমাণে এডিপোনেক্টিন উৎপন্ন করে। এডিপোনেক্টিন হলো সেই উপাদান যেটি শরীরে সুগার লেভেল এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী :
কফি হৃৎপিণ্ডের জন্য যথেষ্ট ভালো বলে প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি দিনে তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
: দৃষ্টিশক্তির বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কফি। কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিল অ্যাসিড চোখকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই পানীয়টি বেশ কিছু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। মুখগহ্বরের ক্যান্সার, মস্তিষ্ক কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে বিরুদ্ধে কাজও করে কফি।

দিনের কোন সময় কফি খাবেন?


কফি অনেকের কাছে পছন্দের পানীয়। অনেকে আবার দিনে আট-দশ কাপ করে কফি পান করেন। এটি শরীরের শক্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সজাগ থাকতে সাহায্য করে। অনেক সময়ে স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত কফি পানে শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অনেকেরই সকাল সকাল এক কাপ কফি তৈরি করে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। অনেকের কাছে সকালের রুটিনে কফি থাকা উচিত। কিন্তু তাতে খুব একটা বেশি উপকার পাওয়া যাবে না, এমনই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পুষ্টিবিদদের মতে, সকাল বেলায় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কর্টিসলের মাত্রা সব চেয়ে বেশি থাকে। এই বিশেষ হরমোন শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, সতেজ থাকা, মেটাবলিজম-সহ একাধিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। আর এই সময়ে শরীরে ক্যাফেইন গেলে কর্টিসেলের উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এক্ষেত্রে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ সকাল দশটার পর থেকে কমতে থাকে কর্টিসেলের মাত্রা। তাই এর পর থেকে বা দিনের মাঝামাঝি যে কোনও সময় কফি পান করার সেরা সময় হতে পারে। আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সকালের প্রথম খাবার হিসেবে অর্থাৎ খালি পেটে কফি পান করার অভ্যাস এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কফির পরিমাণ নিয়ে একটু সচেতন হতে হবে। প্রতিবার কফি কাপে যেন অতিরিক্ত কফি না থাকে, সেই বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো বা তার থেকে একটু কম কফি হলে ক্ষতি নেই। কারণ কফি পানের ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তপ্রবাহের সঙ্গে মিশতে শুরু করে ক্যাফেইন। এটি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে সক্রিয় থাকে। তাই ঘন ঘন অতিরিক্ত কফি খাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

বেশি রাত করে কফি না খাওয়াই ভালো

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিটা বেশি দেরি করে পান করা যাবে না। কারণ কফিতে উপস্থিত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ব্যক্তিবিশেষে এই সমস্যা আবার অন্যরকম হতে পারে। এক্ষেত্রে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর রেখে কফি পানের অভ্যাস করতে হবে। তাই বেশি রাত করে কফি না খেলেই ভালো। কারণ শরীর ও মাথা দুই সুস্থ রাখতে, পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।