ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‌‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার হিন্দু-মুসলিম সবারই জান-মালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি একতরফা কোনো ব্যাপার না।’

রোববার দুপুরে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। পরে তিনি রান্ধুনীমুড়া গ্রামে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

এ সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে তার গোয়েন্দা বাহিনী বোকা বানানিয়েছে। তাকে মিসলিড করা হয়েছে। আপনি ঘটনাস্থলে আসুন। যারা মারা গেছে, তাদের বাড়িতে যান। প্রত্যেক মসজিদেও ইমামদের হুকুম করুন, প্রত্যেক নামাজের সময় বলা হোক- হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই।’

তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত প্রত্যেকটি মন্দিরকে দেরি না করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পুলিশ পাহারা দিয়ে মন্দির-মসজিদ রক্ষা করা যাবে না। এখানে সরকারের ভুল আছে। সরকার যে ৫ হাজার কোটি টাকা মাদ্রাসাকে দিয়েছে সেখান থেকেই এর বীজ উৎপত্তি হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে আমাদেও ভাই-বোনদেরকে রক্ষা করবো।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘যখন মৌলভীরা মোদিবিরোধী আন্দোলন করেছিলো, তারা যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছিল। এটি ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী পছন্দ করেনি। আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী হচ্ছে- ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর অধঃস্তন কর্মচারী।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে আ. লীগের যে বন্ধুরা আছেন তাদের অবস্থা একটু টলমলে হয়ে গেছে। ভারত ভাবছে- কেবল আওয়ামী লীগ না করে অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করবো কি না। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা মনে করছেন- ওদেরকে নিশ্চিত করতে হবে- আমি ছাড়া তাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতিবাদ করতে হবে। তবে এর কারণে যেন ভারতের মুসলিমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তার জন্য সরকারকে সাহসী হতে হবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বলেন, ‘জাতীয় সরকার করে, নিরপক্ষে ব্যক্তিদের এনে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে, সুষ্ঠু নির্বাচন করে আমরা সবাই একত্রে থাকতে চাই।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ৬৯ শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান রিজু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসিবুদ্দিন সোহেল, রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক, সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, সদস্য সারোয়ার তুষার, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ভাসানী অনুসারী পরিষদেও ছাত্রনেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট প্রমুখ।