খাবারের স্বাদ বাড়াতে ঘিয়ের জুড়ি নেই। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘি বাজার থেকে কেনা হয়। খুব কম বাড়িতেই ঘি বানানো হয়।

কিন্তু বাজার থেকে কেনা ঘি সব সময় খাঁটি হয় না। লেবেলে ‘খাঁটি’শব্দটা বড় করে লেখে সবাই। কিন্তু তার পরেও যে ভেজাল থাকে, তার প্রমাণ অনেকবারই দেখা গেছে।

সাধারণত বাজারে পাওয়া অনেক ঘিতেই প্রচুর পরিমাণে সাধারণ বনস্পতি (ডালডা) ও পাম তেল থাকে। গন্ধের জন্য কিছুটা ঘি মেশানো হয়। সঙ্গে থাকে রং। অনেক সময় মহিষের দুধের ঘিয়ে রং দিয়েই বানিয়ে ফেলা হয় গাওয়া (গরুর দুধের) ঘি। কখনও আবার ভেজালের পরিমাণ এমনও হয় যেখানে এক কেজির মধ্যে ৬০০ গ্রাম ডালডা আর ৩০০ গ্রাম পাম তেল থাকে। বাকি মাত্র ১০০ গ্রাম খাঁটি ঘি। এর সঙ্গে অনেক সময়ে এমন রং ব্যবহার করা হয় যা আদৌ ভোজ্য নয়। ঘিয়ের মধ্যে দানা তৈরি করার জন্যও নানা কিছু মেশানো হয়।

খাঁটি ঘি চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল হাতের তালুতে কিছুটা পরিমাণ রাখা। শরীরের তাপে গলে গেলে বুঝতে হবে ঘি'টা খাঁটি। চুলায় দিয়ে ঘি গলাতে পারেন। সেই সময়ে যদি দেখেন ঘি গলতে সময় নিচ্ছে এবং হলুদ রং হয়ে যাচ্ছে তবে তা খাঁটি নয় মোটেও। আরও একটি সহজ পদ্ধতি রয়েছে। কোনও পাত্রে গরম পানি করে তার মধ্যে ঘিয়ের বোতল বসিয়ে দিন। ভিতরের ঘি গলে যাবে। এর পরে ফ্রিজে রেখে দিন। যদি দেখেন গোটা বোতলে একই রঙের জমাট বাধা ঘি তবে সেটা খাঁটি। কিন্তু ভেজাল থাকলে তেলের আলাদা আলাদা স্তর থাকবে।

ভেজাল ঘি এড়িয়ে যেতে বাড়িতে তৈরি করে নেওয়াই ভালো। তবে একান্ত না পারলে সতর্ক হয়ে কেনা উচিত।