আখাউড়া স্থলবন্দরের পণ্য পরিমাপের যন্ত্রের (ওজন স্কেল) সমস্যার কারণে দুই দিন ধরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, স্কেলে সঠিকভাবে ওজন পরিমাপ হচ্ছে না। কখনও ওজন কম হচ্ছে, আবার কখনও বাড়ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি সমাধানের জন্য বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিক এবং লিখিতভাবে জানানোর পরও স্কেলটি মেরামত না করায় সোমবার থেকে ভারত থেকে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট মের্সাস আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আকতার হোসেন জানান, গত আগস্ট মাসের ৮ তারিখ থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই বন্দরে থাকা ওজন স্কেলে আমদানিকৃত পণ্যের ওজন কখনও বাড়ছে, কখনও আবার কমছে। এজন্য আমদানিকারক থেকে সঠিকভাবে পণ্য বুঝে নিতে পারছি না। বিষয়টির সমাধানের জন্য বন্দরের কর্তৃপক্ষকে একাধিকার মৌখিকভাবে জানিয়েছি। পরে গত অক্টোবর মাসের ১৭ তারিখ বন্দরের সহকারী পরিচালক বরাবর স্কেলটি সংস্কার করার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করি। কিন্তু স্কেলটি এখনও ঠিক করা হয়নি। এতে আমাদের আমদানীকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আগরতলা বন্দরে পণ্য বোঝাই বহু গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকা পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের অনুরোধ শিগগিরই যেন বন্দরে ওজন স্কেলটি মেরামত করে দেয়।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান খলিফা জানান, আখাউড়া স্থলবন্দরে গত তিন মাস ধরে আমদানি বেড়েছে। কিন্তু বন্দরের ওজন স্কেলটি সংস্কারের অভাবে আমদানিকৃত পণ্যের প্রতিটি ট্রাকে ওজন প্রকৃত ওজন থেকে ১০০ থেকে ২০০ কেজি বেড়ে যাচ্ছে। তাতে করে প্রতি শিপমেন্টে এলসির মোট ওজন থেকে থেকে প্রায় ৩/৪ টন করে ওজন বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া স্কেলের সমস্যার কারণে মালামাল বেশি চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমদানিকারীরা এ বন্দর দিয়ে ব্যবসা করার আগ্রহ হারিয়ে অন্য বন্দরে চলে যাবেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর কর্মকর্তা ট্রাফিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমাদের স্কেলে ওজনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রতি ট্রাকে ওজন কোন গাড়িতে ৫০ কেজি ১০০ কেজি কম-বেশি হচ্ছে। ইতোমধ্যে একজন টেকনিশিয়ান এসে স্কেলটি এডজাস্টমেন্ট করে গিয়েছিল। কিন্তু আবারও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি হেড অফিসকে জানিয়েছি। হেড অফিস এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্কেল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসছে। হয়তো বুধবার এসে পৌঁছাবেন তারা। দ্রুত মেরামত কাজ হলেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে।