স্বাস্থ্যসচেতন না হলে হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না কীভাবে দুঃস্বপ্নময় জীবনের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছেন আপনি। ভাগ্যবান হলে অনেক সময় অন্যান্য কোনো সাধারণ রোগ পরীক্ষার সময় ঘটনাচ্ছলে রোগীরা টের পান, তাদের শরীরে নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে ঘাতক ক্যান্সার

ক্যান্সার নামক এই মরণব্যাধিটি সবার কাছেই রহস্যের মতো। অনেকেই জানেন না এবং একেবারেই বুঝতে পারেন না কেন দেহে এই ক্যান্সারের কোষের জন্ম হয়। পরিবারে ইতিহাস থাকলেই যে ক্যান্সার হবে এমন কোনো কথা নেই। আমাদের দৈনন্দিন কাজের খারাপ প্রভাবের কারণেও কিন্তু দেহে জন্মায় ক্যান্সারের কোষ। ক্যান্সার অনেক সময় নিঃশব্দে হানা দিতে পারে আপনার সুখের জগতে। স্বাস্থ্যসচেতন না হলে হয়তো ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না কীভাবে দুঃস্বপ্নময় জীবনের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছেন আপনি। ভাগ্যবান হলে অনেক সময় অন্যান্য কোনো সাধারণ রোগ পরীক্ষার সময় ঘটনাচ্ছলে রোগীরা টের পান, তাদের শরীরে নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে ঘাতক ক্যান্সার। কিন্তু এমন কিছু ক্যান্সার রয়েছে যা কিনা আপনাকে ভেবে দেখার সময় দেবে। আর এসব হলো সেকেন্ডারি ক্যান্সার। আশা করি একটু সচেতন হলেই এসব ক্যান্সারকেও আপনি পরাজিত করতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায় একজন ব্যক্তি হয়তো সুস্থ জীবনযাপন করছেন, কিন্তু হঠাৎ করেই দেখা গেল তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেল তার ক্যান্সার হয়েছে। এর মধ্যে তার কিছু লক্ষণও হয়তো শরীরে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো তিনি বুঝতে পারেননি, অথবা গুরুত্ব দেননি।পরে দেখা গেল বিলম্ব করার কারণে ক্যান্সার ইতোমধ্যে তার শরীরে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। তখন চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সারিয়ে তোলা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে।

শৈশবের ক্যান্সার

কোনো কারণে ডাক্তারের নির্দেশ মতো বাচ্চার পেটের সিটি স্ক্যান করতে গিয়ে ধরা পড়ল পেটের নালিতে রয়েছে কিছু পলিপ। এসব পলিপের সব না হলেও কিছু কিছু ক্যান্সারের ভবিষ্যৎ বার্তা বহন করে থাকে। সুতরাং এসব জানা মাত্রই আর হেলাফেলা নয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন সময়মতো। এমনই এক ধরনের রোগ লিফ্রওমিনি সিন্ড্রোম। শুরুতে ভদ্রগোছের মনে হলেও সময়ান্তরে এ রোগটি থেকে দেখা দিতে পারে রক্তের ক্যান্সার লিউকোমিয়া, সারকোমা, ব্রেইন আর স্তনের ক্যান্সার।

পারিবারিক ক্যান্সার

ওই যে বললাম পলিপের কথা। সেটা অনেক সময় বংশানুক্রমে আপনার শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। স্তনের ক্যান্সার এবং মলদ্বারের ক্যান্সারও পারিবারিকভাবে জিনগত প্রভাবে আপনার শরীরে বিস্তার লাভ করতে পারে, যেহেতু জিনকে আর বদলাতে পারবেন না। এজন্য শরীরের স্ট্ক্রিনিং করান চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। আর যদি কোনোভাবে প্রাথমিক স্তরে ক্যান্সারের অস্তিত্ব টের পেয়ে যান, তখন দ্বিধাদ্বন্দ্বে না পড়ে চিকিৎসা শুরু করে দিন গুরুত্ব সহকারে। কেননা দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরে ক্ষতিকর টিউমার বা ক্যান্সারের উপস্থিতি ধরা পড়লে সেখান থেকেও নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

বার্ধক্য ক্যান্সার

বয়স যতই এগোয় আপনি কিন্তু ধীরে ধীরে ক্যান্সারের ঝুঁকির দিকেও পা বাড়াচ্ছেন। কত মানুষই নির্বিঘ্নে পার করে দিচ্ছেন ষাট, সত্তর, আশি বছর। আপনার ভাবনা কী? অনুমান নয়। গবেষণা বলছে, সজাগ না হলে বয়সকালে যে কোনো সময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। হাড়ের ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, রক্তের ক্যান্সার- এসবের সঙ্গে বার্ধক্যের সম্পর্ক রয়েছে।

জীবনাভ্যাস

লাইফস্টাইলটা বদলে নেওয়া কষ্টের ব্যাপার। কিন্তু যেভাবে চলছেন, উড়াধুড়া বোহেমিয়ান জীবন। শরীরের খোরাক জোগাতে জাঙ্ক ফুড, তৈলাক্ত খাবার, অসময়ের খাদ্যাভ্যাস- এসব আপনার জন্য ভালো কিছু বহন করে আনতে পারে না।

জেনে নিন ক্যান্সার এড়াতে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস-

- ভিটামিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস করুন। টমেটো, শিম, ঢেঁড়স, পেঁপে, গাজর, ব্রুকলি রাখুন প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।

- প্রতিদিন ৩০ মিনিট অথবা সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করুন নিবিষ্ট মনে।

- স্থূলতা নয়। বিএমআই (ওজন/উচ্চতা২) বয়স অনুযায়ী ঠিক রাখুন।

- ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন। পরোক্ষ ধূমপান থেকে নিজেকে রক্ষা করুন।

-মদপান করা থেকে বিরত থাকুন।

- সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি যেন আপনার ত্বকসহ শরীরের কোনো ক্ষতি না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

[সহযোগী অধ্যাপক, এনআইসিভিডি]