আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস। শরীরে পুষ্টির অভাব পূরণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এই উপাদানগুলো। প্রতিদিনের ডায়েটে অল্প পরিমাণে আনারস রাখলেই শরীরে এসব পুষ্টির অভাব হবে না।

রোজকার অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা আজকাল ভুগছেন অনেকেই। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলিন, যা আমাদের হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। আনারসের রসের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন এ ধরনের সমস্যা থেকে।

এ ছাড়া ক্যালশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজেও সমৃদ্ধ আনারস। ক্যালশিয়াম হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। তাই যারা হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন, তারা তো খেলে উপকার পাবেনই, সঙ্গে বাচ্চাদের হাড় মজবুত করার জন্যও আনারস খাওয়াতে পারেন।

এক কাপ আনারসের রস পুরো শরীরের মিনারেল কনটেন্টের ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে সক্ষম। এর পরের উপকারিতাটা শুনলে অনেকেই বেশ খুশি হবেন। শুনতে অবাক লাগলেও আনারস ওজন কমাতে বেশ সাহায্য করে। এর কারণ, আনারসের প্রচুর ফাইবার এবং কম কোলেস্টেরল ও ফ্যাট কনটেন্ট। তাই ওজন কমাতে চাইলে সালাদ বা ফুড জুসে আনারস থাকুক যত খুশি।

চোখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ আনারস। এতে থাকা বিটা ক্যারোটিনের ফলে চোখের রেটিনার বহু সমস্যা কমে যায়। নিয়মিত আনারস খেলে দাঁতে জীবাণুর আক্রমণ কম হয় এবং দাঁত ঠিক থাকে। মাড়ির যে কোনো সমস্যার সমাধান করতেও বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে আনারস।

এ ছাড়া শরীরের নানা অংশে ব্যথা দূর করার জন্যও আনারসের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আনারসের পাতার রস ক্রিমিনাশক। প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে দু'চামচ করে এই রস খেলে কয়েক দিনের মধ্যেই কৃমির উৎপাত বন্ধ হয়ে যাবে। শরীরে রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখতে এবং রক্ত পরিষ্কার করে হৃৎপিণ্ডকে কাজ করতে সাহায্য করে আনারস। সূত্র: হেলথলাইন