শরীরে প্রতিটি ভিটামিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা দরকার। তবেই শরীর ভালো থাকবে। তবে বহু মানুষের শরীরে বি১২ ভিটামিনের ঘাটতি দেখা যায়। সেক্ষেত্রে শরীরে ফুটে ওঠে নানা উপসর্গ।
 
ভিটামিন বি ১২ পানিতে দ্রবণীয়। শরীরের নানা জটিল কাজে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এক্ষেত্রে বিপাক, লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি, ডিএনএ তৈরির মতো জটিল কাজে এই ভিটামিন কাজে আসে।

ডিম, দানাশস্য, কম ফ্যাট যুক্ত দুধ, দই, পনির, মুরগির মাংস, মুরগির কলিজা , স্যামন, টুনা, ট্রাউট ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন বি ১২ পাওয়া যায়। তবে এই ভিটামিন মূলত আমিষ খাবারে থাকে। সেক্ষেত্রে নিরামিষ খাবার খাওয়া মানুষের শরীরে অনেক সময়ই এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকে।

শরীরে ভিটামিন বি১২-এর অভাব থাকলে কিছু লক্ষণ ফুটে ওঠে। যেমন-

১. রক্তাস্বল্পতা
২. দুর্বলতা।
৩. শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা।
৪. স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া
৫. শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা।

শরীরে ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি থাকলে অ্যানিমিয়াও হতে পারে। অ্যানিমিয়া থেকে মাথা ব্যথা ও টিনিটাসের মতো সমস্যাও হতে পারে। টিনিটাস হল কানের সমস্যা। এই সমস্যায় কানে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ শোনা যায়। এছাড়াও বি ১২ ভিটামিনটির দীর্ঘদিনের অভাব থাকলে মাথা ঘোরা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, কাজ করার ইচ্ছে চলে যাওয়া, ক্ষুধার সমস্যা দেখা দেয়।

শরীরে এই ভিটামিনের অভাব রয়েছে কিনা তা খুব সহজেই ধরা যায়। এক্ষেত্রে একটি মাত্র রক্ত পরীক্ষাতেই জানা যায় পরিস্থিতি। সাধারণত ওষুধের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়। তবে দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা, এমনকী স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রথম থেকেই সাবধান হয়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।