বাগেরহাটে করোনা শনাক্তের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রতি ২ জনের পরীক্ষা করে ১ জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে।

রোববার দুপুরে বাগেরহাটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। জানুয়ারি মাসের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টার এই হার সর্বোচ্চ বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলায় ৬ জন, কচুয়ায় ১ জন, ফকিরহাটে ৫ জন, মোংলায় ১ জন এবং শরণখোলা উপজেলায় ৭ জন রয়েছেন।

এদিকে, বাগেরহাটে করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ রোধে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে টিকাদান কেন্দ্রেগুলোতে। রোববার বাগেরহাট সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষার্থীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে টিকাদানের সাথে সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীক আলাদা আলাদা দিন ও সময় নির্ধারণ করে দিলে ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে।

সরেজমিনে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, টিকাদান কেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ টিকা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা নিতে এসেছে তারা। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির বালাই দেখা যায়নি তাদের মধ্যে।

বাগেরহাট সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,বাগেরহাট জেলায় ৬ষ্ট শ্রেণি থেকে এইচ এসসি পর্যন্ত ( ১২ থেকে ১৭ বছর ) পর্যন্ত ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণ করেছে। জেলায় শিক্ষার্থীদের টিকা গ্রহণের হার শতভাগ বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

অন্যদিকে ২২ জানুয়ারি বিকেল পর্যন্ত ৪০ হাজার ২৮৯ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা ১ম ডোজ গ্রহণকারীদের শতকরা ২৯ দশমিক ৪৮ ভাগ। এছাড়া বাগেরহাট জেলায় প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ লাখ ৯৬ হাজার ১১৭ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে । যা মোট জনসংখ্যার ৬২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৭ লাখ ২৩ হাজার ৮ ১৬ জন। বুস্টার ডোজ নিয়েছেন ২০ হাজার ১১২জন।

বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বখসি বলেন, কোভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাগেরহাট জেলা অনেক এগিয়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৬৩ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এই সংখ্যাকে আমরা শতভাগে নিতে পারব। যারা টিকা নেননি তাদেরকে দ্রুত টিকা নিতে অনুরোধ করেন তিনি।