পানির অপর নাম জীবন। অথচ পানিতেই রয়েছে তার অ্যালার্জি। গোসল করা তো দূরের কথা,চাইলে কাঁদতেও পারেন না মনভরে। কারণ অশ্রু চোখ থেকে গড়িয়ে গালে-গলায় নামলেই তার ত্বকে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পানি খাওয়ার সময় জিভ ছুঁলেই তার মনে হয় যেন বিষপান করেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচিত্র সমস্যায় ভোগা এই নারীর নাম রেচেল উইক। রেচেলের দুনিয়ায় পানি জীবন নয়, বরং মরণ যন্ত্রণার সমান। যে কোনও ধরনের পানি স্পর্শ করলেই তিনি যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েন। লালচে হয়ে ফুলে ওঠে তার ত্বক। সেই সঙ্গে তীব্র জ্বালা, চুলকানির মতো অস্বস্তিও হতে থাকে। তার সঙ্গে আসে ভয়ানক ক্লান্তি বোধ। রেচেল বলেন, 'আমার মনে হয় যেন আমি ম্যারাথন দৌড়ে এসেছি। এমন হলে আমাকে কোথাও গিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। বেশ খানিক ক্ষণ পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করি'।

রেচেলের এই রোগের নাম অ্যাকোয়াজেনিক আর্টিসারিয়া। এর উপসর্গ হল সারা শরীরে বিছুটি পাতা ঘষে দেওয়ার মতো জ্বালা। তার সঙ্গে ঘুসঘুসে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ সরসর করা, হাঁচি, মাথার যন্ত্রণা, বুকে সর্দি বসার মতো ঠান্ডা লাগার উপসর্গ। আর এই সব কিছু রেচেলকে সহ্য করতে হয় প্রতি দিন।

রেচেলের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মানবদেহে যে সঞ্চিত পানি আছে তা নিয়ে রেচেলের সমস্যা নেই। সমস্যা হয় তখন, যখন সেই পানি ত্বকের সংস্পর্শে আসে বা যখন বাইরে থেকে শরীরে পানি প্রবেশ করে। এই পানি যদি নিজের শরীর নিসৃত হয়, তাতেও সমস্যা হয়।

রেচেল কেন এ ধরনের রোগে ভূগছেন তার সঠিক কারণ বের করতে পারেননি গবেষকরা।

একদল গবেষকের ধারণা, ত্বকের বাইরের অংশ যেখানে মূলত মৃত কোষ এবং তৈলাক্ত পদার্থ থাকে, তা পানির সংস্পর্শে এসে হয়তো কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। তা থেকেই জ্বালার অনুভূতি হতে পারে। আরেকদল গবেষকের মতে, পানির সংস্পর্শে ত্বকের বিভিন্ন স্তরে থাকা জৈব পদার্থ রাসায়নিক তৈরি করে। সেই রাসায়নিক ত্বকের আরও গভীরে প্রবেশ করে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে।

এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। ওমালিজুমাব নামের ড্রাগ দিয়ে চিকিৎসকরা কোনও কোনও ক্ষেত্রে সমাধান পেয়েছেন, তবে সেই ওষুধের দামও আকাশ ছোঁয়া । এ কারণে রেচেল কিনতেও পারেন না নিয়মিত। 

এই রোগ থেকে কবে মুক্তি পাবেন না ভেবে হতাশই হয়ে পড়েছিলেন রেচেল। তবে তাকে মানসিক জোর জুগিয়েছেন তার স্বামী। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে রেচেলের দেখাশোনা করেছেন। রেচেল এখন পানির বদলে দুধ খান। তাতে তার যন্ত্রণা কিছুটা কমেছে। কিন্তু সমাধান হয়নি।