বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রায় পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন,জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে যে শুধু স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, তা নয়। ডিমেনশিয়ায় ভোগা ব্যক্তিরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজনের মতো নানা শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। এ ছাড়া মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনযাপনে যদি কিছু পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে একই সঙ্গে ডিমেনশিয়া এবং হদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন : প্রতিদিন না হোক, অন্তত সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ খেতে পারেন। ওমেগা-থ্রি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া মস্তিষ্কে কোষের গঠন এবং কার্যকারিতা পরিচালনা করতেও ওমেগা-থ্রি খুবই কার্যকরী।

প্রতিদিন শাকসবজি খান
: প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন-সি, ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ সবুজ শাকসব্জি রাখুন। এই খাবারগুলিতে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে। শাকসবজি শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত চলাচল সচল রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও এই খাবারগুলি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন
: প্রক্রিয়াজাত মাংস, প্রক্রিয়াজাত বাইরের খাবার উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। এই খাবারের পরিবর্তে ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইট্রোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান।

শারীরিক কার্যক্রম চালু রাখুন
: নিয়মিত শরীরচর্চা, ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করুন। শারীরিক কার্যক্রম রক্তনালী সচল রাখার পাশাপাশি শরীরে ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহও করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তিও উন্নত হয়।

ধূমপান এড়িয়ে চলুন
: যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। অতিরিক্ত ধূমপানের অভ্যাস অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি করে রক্তনালীর কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।