মধু স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ওষুধি গুণে ভরপুর মধুকে অনেক সময় চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওজন কমানোর জন্যও মধু বেশ কার্যকরী। এ ছাড়াও সর্দি-কাশি, হজমজনিত সমস্যা, অনিদ্রা দূর করতেও মধু ব্যবহার করা হয়ে থাকে। শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তি সবার জন্যই মধু অত্যন্ত উপযোগী।

তবে শিশুদের কোন বয়স থেকে মধু দেওয়া উচিত তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকেই শিশু জন্মানোর পর মধু খাওয়ান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা মোটেও ঠিক নয়। অনেকে আবার শিশুর বয়স এক বছর হওয়ার আগেই তাকে মধু দেন। কিন্তু শিশুদের মধু খাওয়ানোর জন্য একটা বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

কোন বয়স থেকে শিশুদের মধু খাওয়াবেন-

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ভুলেও মধু খাওয়াবেন না। কারণ এর ফলে তাদের হজমে সমস্যা হতে পারে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধু দিলে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।  অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ইনফ্যান্ট বোটুলিজমও হতে পারে।

সাধারণত ক্লস্ট্রিডিয়াম বটিলিনম নামক এক ধরনের জীবাণুর কারণে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম হয়। এই জীবাণুটি মাটি, মধু বা মধু দিয়ে তৈরি খাদ্য সামগ্রীতে উপস্থিত থাকে। এই জীবাণু অন্ত্রে গিয়ে ব্যাকটেরিয়ায় পরিণত হয়ে যায় এবং শরীরে ক্ষতিকর নিউরোটক্সিন্স সৃষ্টি করে। বোটুলিজম এমন একটি গুরুতর রোগ, যার দ্বারা আক্রান্ত হলে ৭০ শতাংশ শিশুকে প্রায় ২৩ দিন পর্যন্ত ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। তাই ১ বছরের কম বয়সি ভুলেও মধু খাওয়ানো ঠিক নয়। ইনফ্যান্ট বোটুলিজমের কারণে শিশুদের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, শিশুরা টেনে দুধ পান করতে পারে না, তাদের কান্নার শব্দ কমে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।


শিশুদের মধু খাওয়ানোর উপকারিতা-

১. মধুতে অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইমস, খনিজ এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ছাড়াও ভিটামিন বি, সি উপস্থিত। বাড়ন্ত শিশুদের বিকাশে এই উপাদানগুলি অত্যন্ত কার্যকরী। এ কারণে শিশুদের খাবারে চিনির পরিবর্তে মধু মিশিয়ে দিতে পারেন।

২. শিশুর বয়স ১ বা দেড় বছরের বেশি হলে, তাদের সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, গলা খুশখুশের সমস্যা থেকে স্বস্তি দিতে মধু খাওয়াতে পারেন। মধুর প্রকৃতি গরম হওয়ায় সর্দি-কাশি কম করতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদেও গলার সমস্যার জন্য মধু ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. মধুতে তিন ধরনের শর্করা যেমন-সুক্রোজ, গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে। শরীর এই তিন ধরনের শর্করাকেই পৃথক পৃথক ভাবে ব্যবহার করে থাকে। সুক্রোজ ও গ্লুকোজ তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় ও রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। অন্য দিকে ফ্রুক্টোজ শরীরে দীর্ঘসময় পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। যার ফলে শিশুদের শরীরে স্থায়ী ও ভারসাম্য যুক্ত শক্তির জোগান সম্ভব হয়।

৪. লিভারের সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে মধু। প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ লিভারের ওপর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া করে থাকে। মধু এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম করতে সাহায্য করে। তাই শিশু অসুস্থ থাকলে, তাকে ওষুধের পাশাপাশি মধু খাওয়াতে ভুলবেন না। এর ফলে ওষুধের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

৫. মধু তাড়াতাড়ি ক্ষত নিরাময় করতে পারে। আবার শিশুদের হাত বা পা কেটে ছড়ে গেলে বা পুড়ে গেলে, ক্ষত স্থানে মধু লাগাতে পারেন। এর ফলে সেই ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। মধুতে থাকা অ্যান্টি ব্যাক্টিরিয়াল ও অ্যান্টি বায়োটিক উপাদান দ্রুত ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৬.শিশুর পেট খারাপ হলে, পেটে গ্যাস, বদহজমের সমস্যা দেখা দিলে বা কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসার, ডায়রিয়া হলেও মধু উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। অন্ত্রে উপস্থিত ব্যাকটেয়িাকে ধ্বংস করে পেটের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে মধু। তাই ছোট শিশুদের পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে মধু খাওয়ানো উচিত।