প্রাচীনকাল থেকেই পুদিনা পাতা স্বাদ-গন্ধের জন্য বিখ্যাত। খাবারের স্বাদ বাড়াতে পুদিনা পাতার জুড়ি নেই।  বাজারে মিন্ট ফ্লেভারে যেসব জিনিস পাওয়া সেই সবই পুদিনার নির্যাসে তৈরি।

প্রাচীন গ্রীক, রোমান এবং মিশরীয়রা হাজার হাজার বছর আগে ওষুধ হিসেবে পুদিনা পাতা ব্যবহার করতেন।  বর্তমানে পুদিনার নির্যাস থেকে তৈরি চা, ক্যাপসুল খান অনেকে। পুদিনা পাতার তৈরি তেল ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।

এছাড়াও পুদিনা পাতা থেকে যেসব উপকারিতা মেলে-

পেটের সমস্যা কমায় : কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, পুদিনা পাতা এবং অন্যান্য ভেষজ ওষুধ শিশুদের পেটের ব্যথা কমাতে পারে। কিছু গবেষণা বলছে, কেমোথেরাপি থেকে যে বমি বমি ভাব এবং বমি হয় তা দূর করতেও সাহায্য করতে পারে পুদিনা পাতা।

মাথা ব্যথা কমায় : কিছু গবেষণা দেখা গেছে, পুদিনা পাতার তেল মাইগ্রেনের মাথাব্যথার ব্যথা কমাতে পারে। এটি অন্যান্য উপসর্গ যেমন হালকা সংবেদনশীলতা, বমি বমি ভাব এবং বমি কমাতে পারে। গবেষণা বলছে, কপালে হালকা করে পুদিনার তেল ম্যাসাজ করলে মাথাব্যথা দূর হয়।

সাইনাসের সমস্যা কমায় : পুদিনায় থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান সর্দি এবং জমে থাকা কফ পরিস্কার করতে ভূমিকা রাখে। ফলে সাইনাসের রোগীরা সহজে শ্বাস নিতে পারেন।

শক্তি বাড়ায় : পুদিনার তেলের গন্ধ ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। আর ঘুম ভালো হলে শরীরে শক্তি বাড়ে।

পিরিয়ডে ব্যথা কমায় : পুদিনায় থাকা মেন্থল নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পিরিয়ড চলাকালীন নারীরা পেটে পুদিনার তেল ম্যাসাজ করতে পারেন।

দাঁত ও মাঢ়ির সুরক্ষায়:  মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কাজে পুদিনা পাতা আদর্শ উপাদান। এর নির্যাস সমৃদ্ধ ‘মাউথওয়াশ’মুখের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করে, সুস্থ রাখে দাঁত ও মাঢ়ি।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে পুদিনা পাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত এই পাতা খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।

মৌসুমি রোগের চিকিৎসায়:  ঠান্ডা, সর্দিজ্বর, নাক বন্ধ ইত্যাদি সমস্যার সমাধানে পুদিনা পাতা অত্যন্ত উপকারী এবং কার্যকর। প্রায় সকল ‘ভেপর রাব’,‘ইনহেলার’য়েই থাকে এর নির্যাস। পাশাপাশি কাশি কমাতে এবং গলার অস্বস্তি সারাতেও পুদিনা পাতা কার্যকর। সূত্র : ওয়েব এমডি