উপকূলীয় দাকোপ উপজেলার খাটাইল গ্রামের কৃষক এরশাদ শেখ এ বছর সাত হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এর মধ্যে কিছু জমি বন্দোবস্ত নেওয়া।
তিনি জানান, সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। এ পর্যন্ত চার হেক্টর জমির তরমুজ বিক্রি করেছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকায়। বাকি জমি থেকে ১৪ লাখ টাকা আয় হবে এমন প্রত্যাশা তার। এতে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা লাভ হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলার বারুইকাটি গ্রামের কৃষক প্রতাপ মণ্ডল প্রায় তিন হেক্টর জমি বন্দোবস্ত নিয়ে ছয় জাতের তরমুজ চাষ করেন। খরচ হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা। তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৫ লাখ টাকায়।
তিনি বলেন, এ এলাকার কৃষিজমি লবণাক্ত, সে কারণে পাঁচ-ছয় বছর আগেও এখানে শুধু আমন ধান হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে অধিকাংশ কৃষক তরমুজ চাষ করছেন। তিনি গত বছর থেকে চাষ শুরু করেছেন। এ বছর তার প্রায় ১৭ লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।
শুধু তারাই নন; খুলনার পাঁচটি উপজেলায় তরমুজ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। লবণাক্ততার কারণে যেসব কৃষিজমি পতিত থাকত এখন সেসব জমিতেও চাষ হচ্ছে। ছয় বছরের ব্যবধানে ৩৪ গুণ বেশি জমিতে হচ্ছে চাষ।
২০১৬ সালে জেলায় ৪০৭ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ১৭ হাজার ৪৯৪ টন। গত বছর সাড়ে সাত হাজার হেক্টরে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় চার লাখ মেট্রিক টন।
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, এ বছর খুলনায় ১৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় চার লাখ ১৯ হাজার ১০০ টন। হেক্টরপ্রতি ব্যয় হয়েছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাত লাখ টাকা করে। সেই হিসাবে খুলনায় এ বছর প্রায় ৯৭৭ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন হয়েছে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানান, আগে লবণাক্ততার কারণে অনেক কৃষিজমি পতিত পড়ে থাকত। স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় বাড়ছে তরমুজ চাষাবাদ।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।