পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা ও দশমিনা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহামুদ লিটন গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায়। এমপির উপস্থিতিতেই ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রোববার দশমিনা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার উদ্যোগে দশমিনা উপজেলা সদরের বেগম আরেফাতুননেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টায় ইফতার মাহফিল শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে মঞ্চে বসা ও নাম ঘোষণা নিয়ে এমপি ও সাধারণ সম্পাদকের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় অর্ধশতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে আতংক ছড়িয়ে পড়ে, মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতরা হচ উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আল আমীন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক কাজী শাকিল, সাবেক সম্পাদক রেজাউল করিম, যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম, প্রভাষক আবু সায়েম, রনগোপালদী ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি হেলাল গাজী, দশমিনা সদর ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি জাকির, ছাত্রলীগ নেতা রাকিব, উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি বেল্লাল হোসেন, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা জাবের হোসেন, সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নুরুল আমীন ও আলাল গাজী।

গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আল আমীন মুন্সিকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য আহতদের দশমিনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, দলে অনুপ্রবেশকারী সুবিধাভোগীরা ত্যাগী ও পরিক্ষিত আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা বলেন, আমার কোনো গ্রুপ নাই। আমি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা দলে ফাটল ধরাতে হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আজীজ মিয়া বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আর কোনো সংঘর্ষে জড়াবেন না।