এক সপ্তাহ পরই আসছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ। চাষির যত্নে গাছে বাড়ছে আম। কিন্তু আম পাকছে কবে? আমপ্রেমীদের অপেক্ষা যেন আর শেষ হচ্ছে না। তাই ঘুরেফিরেই প্রশ্ন- কবে বাজারে আসছে পাকা আম? চাষিরা বলছেন, আর বেশি দিন অপেক্ষা নয়; এক সপ্তাহ পরই বাজারে উঠবে গুটি আম। এর পর পর্যায়ক্রমে আসতে থাকবে ভালো জাতের আম।

আমচাষিরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই আম পাকা শুরু হয়। এ কারণে জ্যৈষ্ঠকে সবাই মধু মাস বলে। এবারও জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম দিকেই আম পাকবে। প্রথমে পাকবে গুটি আম। ১৫ থেকে ২০ মের মধ্যেই এ আম বাজারে উঠবে। মের শেষ সপ্তাহে বাজারে আসবে গোপালভোগ। জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে আসবে ক্ষীরশাপাতি ও লক্ষণভোগ। সুস্বাদু আম হওয়ায় ক্ষীরশাপাতি প্রায় সবারই পছন্দের শীর্ষে থাকে। মূলত ক্ষীরশাপাতি দিয়েই ভালো জাতের আমের সূচনা হয়।

জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাজারে আসবে আমের রাজাখ্যাত ল্যাংড়া। সুঘ্রাণযুক্ত ল্যাংড়ার জন্য অনেকে পুরো মৌসুমই অপেক্ষায় থাকেন। আর বিখ্যাত ফজলি আসবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে। ভরা মৌসুমে ফজলি আমের দাম থাকে নাগালের মধ্যে। ভালো মানের আম হিসেবে সুপরিচিত ফজলির জন্য নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ অপেক্ষায় থাকেন। এ কারণে ফজলির মৌসুমটিই মূলত আমের ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত।

বাঘা উপজেলার আমচাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, ১৫ মে থেকে গুটি আম, ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ, ২৮ মে থেকে ক্ষীরশাপাতি নামানো শুরু হবে। গত দুই বছর ধরেই এভাবে চলছে। এবার আম কম। গড়ে ৪০ শতাংশ আমের উৎপাদন হবে। দাম ভালো থাকবে। তাই পরিপকস্ফ হওয়ার পরই চাষিরা আম নামাবেন। প্রশাসনও কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে দুই লাখ ১৭ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবার উৎপাদন ভালো হবে না। অধিকাংশ বাগানই আমশূন্য।

পুঠিয়ার আমচাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার শীতের শেষের দিকে মুকুল আসার সময় বৃষ্টিপাত হয়। এ ছাড়া সে সময় ঠান্ডা থেকে হঠাৎ করেই গরম নেমে আসে। বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে আগাম মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। শীত না যেতেই হঠাৎ গরম আবহাওয়া শুরু হলে গাছে মুকুলের পরিবর্তে নতুন পাতা বের হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিকভাবেই এক বছর বেশি আম হলে পরের বছর আম কম হয়। গত বছর ছিল আমের অন ইয়ার। প্রচুর ফলন হয়েছিল। এবার অফ ইয়ার। এ কারণেই ফলন কম। আরেক আমচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমের উৎপাদন বেশি হলে চাষিরা দাম কম পান। উৎপাদন খরচও ওঠে না। গত বছরও চাষিরা উৎপাদন খরচ ওঠাতে পারেননি। আবার উৎপাদন কম হলে দাম ভালো আসে। তাই এবার দাম ভালো হবে আশা করা হচ্ছে।

রাজশাহী ফল গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দীন বলেন, তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে আম পাকতে এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় কম-বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, চাষিরা উৎপাদন যতটা কম বলছেন, ততটা হবে না। কারণ আমের আবাদ বেড়েছে।

রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরিফুল হক বলেন, ১২ মে আমচাষি, ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ, কুরিয়ার সার্ভিসসহ আমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে আম নামানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। আশাকরি চাষিরা এবার কেমিক্যালমুক্ত পরিপকস্ফ আমই বাজারে আনবেন।