পাঁচ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন বরগুনা সদর উপজেলার নিমতলী গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির। দাম কম থাকা ও ক্রেতা সংকটের কারণে এতদিন ক্ষেতের তরমুজ তোলেননি তিনি। আশা করছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে দাম বাড়লে তখন বিক্রি করবেন। তার বাড়তি লাভের আশায় পানি ঢেলে দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আসানি’। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী এ ঝড়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন হুমায়ুনের মতো বহু তরমুজ চাষি।

মঙ্গলবার দুপুরে হুমায়ুন বলছিলেন, ‘আমার ক্ষেতের প্রতিটা তরমুজের ওপরে অন্তত ২ ইঞ্চি পানি জমে গেছে। ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলার লোকও পাই না।’ তার দাবি, তরমুজ চাষে যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করলে এবার তা উঠবে না।

বরগুনা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী, নলটোনা, আমতলী উপজেলার চাওড়া, কুকুয়া, সদর ইউনিয়নে চাষ হয়েছে বেশি।

সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের আমতলী, নিমতলী, চৌমুহনীসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, তরমুজ চাষিদের দুর্ভোগ। টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ক্ষেতের হাজার হাজার তরমুজ। কেউ নৌকায়, কেউ বা বস্তায় করে তরমুজ তুলে রাখছেন রাস্তায়। অনেক চাষি শ্রমিকের অভাবে তরমুজ তুলতেই পারছেন না। তাদের ক্ষতি বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

নিমতলীর মো. আল-আমিন বলেন, '১৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এক লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় এখন ১০ হাজার টাকাও বিক্রি করা যাবে না।' এ কৃষকের অভিযোগ, হঠাৎ করে এভাবে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হব- এ বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। এমনকি চাষের সময়ও তারা কোনো সহায়তা পাননি।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলমের ভাষ্য, সোমবার পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাতে তরমুজ ছাড়া অন্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তিনি দাবি করেন, কৃষকদের আগাম ফসল ঘরে তোলার ব্যাপারে মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচার চালানো হয়েছে। তবে লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে নিজেদের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেন তিনি।