বাগদা ফার্মের তিন ফসলি কৃষিজমি সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর পূর্বতন মালিকদের বংশধরের কাছে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৪০ বিশিষ্ট নাগরিক। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ (বাগদা) ফার্মের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি মাসের ১০ তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ওই সভায় সাঁওতাল নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় আদিবাসী সাঁওতালরা বিক্ষোভও করেছেন। 

সাঁওতালরা জানান, চিনিকলের জন্য আখ চাষ করা ছাড়া অন্য কিছু করা হবে না- এই শর্তে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে এসব জমি রিকুইজিশন করেছিল।

বিশিষ্টজনরা বলেন, চিনিকলটি ২০০৪ সাল থেকে বন্ধ থাকায় সে শর্ত ভঙ্গ হয়েছে, তাই জমিগুলো তাদের কাছে ফেরত দিতে হবে। আমরা মনে করি, তাদের এ দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং কোনো অবস্থায়ই তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড স্থাপন করা কিংবা কোনো শিল্পকারখানা করা যাবে না মর্মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও আছে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের জনবিরোধী, উস্কানিমূলক ও হঠকারী উচ্ছেদ পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাই।

বিবৃতিদাতারা হলেন- মানবাধিকার কর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, রাজনীতিবিদ ও সামাজিক আন্দোলন নেতা পংকজ ভট্টাচার্য, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, সুপ্রিম কোর্ট সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সদস্য অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।