বগুড়ার শাজাহানপুরে এক ইটভাটার আগুনের তাপে প্রায় ৭০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। ইটভাটার আগুন নেভানোর পর সৃষ্ট গরম বাতাসের প্রবাহ যেদিক দিয়ে গেছে, সেসব এলাকার সবজি ক্ষেত, কলাবাগান, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছপালাও পুড়ে গেছে। 

গত রোববার রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মেসার্স সিরাত ব্রিকস নামের ওই ইটভাটাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ফসলের জমির পাশে কয়েক বছর আগে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়। সে সময় কৃষকরা এতে বাধা দিলেও লাভ হয়নি। ইটভাটার কারণে তাঁদের ফসলের ক্ষতি হতে থাকে। রোববার রাতে ওই ইটভাটার গরম গ্যাস ছেড়ে দেয় ভাটার কর্মচারীরা। এতে ভাটার আগুনের তাপে পাশে থাকা ধানক্ষেত, সবজি ক্ষেত, কলাবাগানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাহেদুল ইসলাম জানান, তাঁর দুই বিঘা জমির আধাপাকা ধান পুড়ে গেছে। হোসেন আলী জানান, তাঁর ২০ শতক জমিতে করলার মাচা ছিল। ভাটার গরম গ্যাসে সব করলাগাছ মরে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহাথির বিন মোহাম্মদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশিক খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম, থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরিদর্শনকালে ইটভাটার গরম বাতাসে ফসল বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শফিকুল ইসলাম শিরুর মালিকানাধীন সিরাত ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক খান।

তিনি জানান, ইটভাটার চিমনি নেভানোর সময় সৃষ্টি হওয়া গরম বাতাস ফসলের মাঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, ইটভাটা থেকে নির্গত গরম গ্যাসে জামালপুর এলাকায় ৫০-৬০ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিষয় : ইটভাটার আগুন সবজি ক্ষেত আগুনের তাপে ফসল পুড়ে গেছে

মন্তব্য করুন