মাঙ্কিপক্স নতুন কোনো ভাইরাসজনিত রোগ নয়। আফ্রিকাতে এই রোগের হদিস আগেও ছিল। নতুন করে যেটা সামনে এসেছে তা হলো, এবার ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে।

করোনা মহামারিই এখনো শেষ হয়নি, এরই মধ্যে ভাইরাসজনিত এই রোগের প্রাদুর্ভাবে কিছুটা চিন্তিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)। তবে মঙ্গলবার মেডিক্যাল পিয়ার রিভিউ জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে মাঙ্কিপক্সের চিকিৎসা করা যেতে পারে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ব্রিটেনে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত সাতজন নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়।গবেষণায় দাবি করা হয়, এমন কিছু ‘অ্যান্টিভাইরাল’ ওষুধ আছে যা প্রয়োগ করলে মাঙ্কিপক্সের উপসর্গগুলি প্রশমিত করা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, এই সব ওষুধের প্রয়োগ করে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। 

গবেষকদের দাবি,  রোগীদের ওপর দুটি ভিন্ন অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ— ব্রিনসিডোফোভির এবং টেকোভিরিমাট প্রয়োগ করেই আশানুরূপ ফলাফল পেয়েছেন তারা। 

মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ ঠেকাতে গবেষকরা ব্রিনসিডোফোভির নামক ওষুধটির কার্যকারিতা সম্পর্কে অনেকটা নিশ্চিত হলেও টেকোভিরিমাটের বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন। তারা জানিয়েছেন, রক্ত এবং লালারসের নমুনা পরীক্ষা করলেই শরীরে মাঙ্কিপক্সের উপস্থিতি টের পাওয়া সম্ভব।

এই ভাইরাসে আক্রান্তদের শরীরে প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথা যন্ত্রণা, পিঠ ও গায়ে ব্যথার মতো লক্ষণ। হতে পারে কাঁপুনি ও ক্লান্তিও। এরপর দেহের বিভিন্ন লসিকা গ্রন্থি ফুলে ওঠে। সঙ্গে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে থাকে মুখে। ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ফোসকার মতো ক্ষত। 

বিশেষজ্ঞদের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে বেড়ে যেতে পারে সংক্রমণের আশঙ্কা। শ্বাসনালি, ক্ষত স্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। যৌন মিলনের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে।