শরীরে ক্যালসিয়াম অ্যাবজর্বেশনের পুরো কাজটাই করে এই ভিটামিন ডি। অর্থাৎ, আপনি যতই ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান না কেন, সেগুলো কোনো কাজেই আসবে না যদি আপনার ভিটামিন ডি'র ঘাটতি থাকে। যাঁরা সারাদিন এসি ঘরে বসে থাকেন বা কৃত্রিম আলোর নিচে থাকেন, তাঁদের ভিটামিন ডি'র অভাব হওয়াটা কিছু অস্বাভাবিক নয়। আবার সদ্যোজাত বাচ্চাদের মধ্যেও ভিটামিন ডি'র অভাব দেখা দেয়। মাতৃদুগ্ধে ভিটামিন ডি থাকে না। আবার খুব ছোট বাচ্চাকে রোদে বেশিক্ষণ রাখাও সম্ভব নয়। আগে অনেকক্ষণ একটানা কাজ করার ফলে ঘাড়ে, পিঠে বা মাথায় ব্যথার কারণ হিসেবে ফাইব্রোমায়োজিয়া বা ক্রনিক ফেটিগ সিনড্রোমকে দেখা হতো। কিন্তু এখন দেখা গেছে, এসব কিছুর মূলে আছে ভিটামিন ডি'র অভাব। এই ভিটামিন ডি'র ঘাটতির ফলে সারা শরীরে অজানা কারণে ব্যথা, পায়ে ক্র্যাম্প, অবসাদ, হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নানা লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এটাই ক্লিনিক্যাল সিনড্রোম।

এর ফলে শরীরে বোন ম্যাচুরেশন কম হয়। ফলে হাড়ের শক্তি বা বোন স্ট্রেংথ কমে যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি'র অভাবে চুল উঠে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, ভুঁড়ি বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ওদের ভিটামিন ডি ইনজেকশন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বাচ্চাদের এর ফলে হাড় বেঁকে যেতে পারে। কীভাবে বুঝবেন আপনার শরীরে ভিটামিন ডি'র অভাব ঘটেছে?

প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়া
ভিটামিন ডি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া শরীরে ভিটামিন ডি'র ঘাটতির সংকেত হতে পারে।

হাড় এবং পিঠে ব্যথা
ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদি নিয়মিত শরীরে হাড় বা পিঠে ব্যথা বোধ করেন, তাহলে বুঝবেন এটা ভিটামিন ডি'র অভাবের কারণে ঘটতে পারে।

হাড় ক্ষয় হতে শুরু করলে
ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে। ক্যালসিয়াম সংশ্নেষণের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৃদ্ধ বয়সে যারা হাড়ের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের ক্যালসিয়ামসহ বেশকিছু খনিজের অভাব পূরণ করতে বলা হয়, সেই সঙ্গে ভিটামিন ডি'র দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়।

মাংসপেশিতে ব্যথা
ভিটামিন ডি'র অভাবে আপনার শরীরের মাংসপেশিগুলোতে ব্যথা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। ভিটামিন ডি শরীরের মাংসপেশিকে দৃঢ়তা প্রদান করে, যার ফলে ব্যথার যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।া