চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত কমে এসেছে। এরপরও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না নগরবাসী। কারণ পানি নামার সব পথই রুদ্ধ। বৃষ্টিতে আগের পানিই এখনও নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান রয়ে গেছে। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) খাল ও নালাগুলো পরিষ্কার না করায় পানি নামতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে দায় নিতে নারাজ এ দুই সেবা সংস্থা।

উল্টো মঙ্গলবার পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শনে এসে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী নগরবাসীকে একহাত নেন। তিনি বলেন, দুই কারণে পানি জমছে। খাল-নালা পরিষ্কারের পরও ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন নগরবাসী এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজের জন্য ভরাট করা মাটি উত্তোলন না করা। ভবিষ্যতে কারও বাড়ি বা দোকানের সামনে আবর্জনা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় হয়েছিল ১৬২ দশমিক ৮ মিলিমিটার। আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় নগরীর সুরভী আবাসিক এলাকার সড়কে হাঁটুপানি দেখা যায়। সড়কে ময়লা পানি জমে থাকায় ঘরবন্দি মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। জলজট থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে শঙ্কিত তাঁরা। এই এলাকার বাসিন্দা শাহেদা আক্তার বলেন, পানি কিছুটা কমেছে। কিন্তু এখনও হাঁটুপানি জমে আছে। দু'দিন ধরে বাচ্চা অসুস্থ। পানির কারণে বের হতে পারছি না। পানি কবে নামবে, তা অনিশ্চিত। নালা বন্ধ থাকায় পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাঁচ দিন ধরে চকবাজার মুহাম্মদ আলী শাহ দরগাহ লেনে হাঁটুসমান পানি। এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু বাসায় এখনও হাঁটুর ওপরে পানি। আমাদের একপাশে চাক্তাই, অন্যপাশে হিজড়া খাল। দুটিই আবর্জনায় বন্ধ।

নগরের বহদ্দারহাট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাড়ির উঠান ও সামনের রাস্তায়ও পানি জমে ছিল। মঙ্গলবার দুপুরেও গোড়ালি পর্যন্ত পানি ছিল। মেয়রের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোস্তফা জামাল চৌধুরী বলেন, পানি অনেক নেমেছে। তবে উঠান ও রাস্তা থেকে পানি পুরোপুরি নামেনি।

এ ছাড়া নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়া, বাকলিয়ার বড়মিয়া মসজিদ, বাকলিয়া সরকারি স্কুল রোড, মাজার গেট, বড় কবরস্থান, বলিরহাট পুলিশ ফাঁড়ি, চান্দাপুকুরপাড়, বগারবিল, শান্তিনগর, চান্দগাঁও নুরুজ্জামান নাজির বাড়িসহ নগরের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মঙ্গলবার নগরের পশ্চিম বাকলিয়া শান্তিনগর, চন্দনপুরা, চাক্তাই তক্তারপুলসহ বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষ খালগুলোয় বর্জ্য ফেলে ভরাট করে ফেলছেন। এ জন্য পানি জমছে। বর্ষা শুরুর আগেই আবর্জনা ও মাটি সরানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনক, আবারও খালগুলো বর্জ্যে ভরে গেছে। এ ছাড়া সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাটি খালে ফেলেছে। অনেক বাঁধ অপসারণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে নতুন বাঁধ দিয়েছে। এ জন্য বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মেয়র বলেন, জেল-জরিমানার বিধান রেখে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন করেছে সরকার। এখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যাঁর বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা-আবর্জনা পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।