সাধারণ সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে প্রায় সবার বাড়িতেই অতিরিক্ত মাংস থাকে। সেগুলো যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য মাংস কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে তা জানা জরুরি।
মাংস সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো তা জীবাণু মুক্ত রাখা, স্বাদ ও গুণগত মান যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ রাখা, পচন রোধ করা, খাদ্যবাহিত রোগ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা। এ জন্য অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
- মাংস বেশিক্ষণ বাইরে রাখলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। তাই মাংস বাড়িতে আসার পর দ্রুত সেটা ভালোভাবে ধুয়ে রক্ত পরিস্কার করে রান্না করতে হবে অথবা ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে।
- মাংস অবশ্যই প্লাস্টিকের ব্যাগে বা 'অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল'-এ মুড়ে রাখতে হবে। এতে মাংসে বাতাস ঢুকবে না। ফলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা কমবে।
- ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সম্ভব না হলে মাংস সঠিকভাবে জ্বাল দিয়ে রাখতে হবে। ছয় ঘণ্টা পরপর সেটা পুনরায় জ্বাল দিতে হবে।
- মাংস লম্বা টুকরা করে লবণ ও হলুদ মেখে রেখে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।
- রান্নার সময় মাংসের টুকরাগুলো ছোট করে কাটলে এবং মাংসে টক দই, লেবুর রস, সিরকা, পেঁপে বাটা দিয়ে মেখে রাখলে একদিকে যেমন কম সময়ে মাংস সিদ্ধ হয়, তেমনি চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কাটানো যায়।
- প্রথমেই ফ্রিজ ভালোভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। কারণ দীর্ঘদিন মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ পরিস্কার থাকা খুবই জরুরি। ফ্রিজে আগের মাছ ও মাংসের কারণে গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- মাংস সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে রক্ত ধুয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি ঝরানোর জন্য বড় ঝুড়িতে রেখে দিন। মাংস থেকে পানি ঝরে গেলে পলিথিন বা প্লাস্টিকের প্যাকেটে রেখে ভালোভাবে মুখ পেঁচিয়ে বা বন্ধ করে ফ্রিজে রাখতে হবে।
- কোরবানির তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত মাংস শক্ত থাকে। এই সময় মাংস ফ্রিজে না রাখাই ভালো। পরে খানিকটা নরম হলে মাংস সংরক্ষণ করতে হবে।
- ফ্রিজে সংরক্ষণের জন্য মোটা ও ভালো মানের পলিথিন বেছে নেওয়া উচিত। একেকটি মাংসের প্যাকেট রাখার সময় মাঝে মোটা কাগজের টুকরা দিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে একটি মাংসের প্যাকেটের সঙ্গে অন্য প্যাকেট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।
- মাংস সংরক্ষণের জন্য নতুন ও পরিস্কার প্যাকেট ব্যবহার করতে হবে। পুরোনো বা আগের ব্যবহূত পলিথিন ব্যবহার করলে মাংস গন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- ফ্রিজে মাংস রাখার পর তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে হবে। এতে মাংস তাড়াতাড়ি জমবে।
মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা সম্পর্কে ডা. নাহিদা আহমেদ বলেন, 'এক বছর পর্যন্ত মাংস সংরক্ষণ করতে চাইলে ফ্রিজের তাপমাত্রা থাকতে হবে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাসাবাড়িতে থাকা ফ্রিজগুলোতে সাধারণত এতটা ঠান্ডা করার সুবিধা থাকে না।'
ধানমন্ডির বাসিন্দা ফৌজিয়া হক লেবু ও লবণের সাহায্যে মাংস সংরক্ষণ করেন। এ জন্য তিনি মাংসগুলো মাঝারি আকারে কেটে হালকাভাবে ছেঁচে নেন। এরপর লবণ ও লেবুর রসে ঘণ্টাখানেক ডুবিয়ে রাখেন, যেন মাংসের ভেতরে ভেতরে সেটা পৌঁছায়। এভাবে মাংস কয়েকদিন পর্যন্ত ভালো রাখা যায়। এ ছাড়া মাংস ভেজেও তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেন। এ জন্য তিনি মাংস কেটে পরিস্কার করে আদা বাটা, রসুন বাটা, পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাংসটি কিছুক্ষণ ম্যারিনেট করে রাখেন। এরপর গরম ডুবো তেলে মসলাসহ মাংসগুলো ভেজে নেন এবং তেল ছেঁকে নিয়ে তা সংরক্ষণ করেন। া

বিষয় : মাংস সংরক্ষন ফ্রিজে সংরক্ষণ

মন্তব্য করুন