আশি-নব্বই দশকের নারীরা কপালে যেমন টিপ পরতেন, এখন অবশ্য একই টিপের প্রচলন নেই। এসেছে পরিবর্তন। টিপের একাল-সেকাল নিয়ে লিখেছেন সানজানা এস পায়েল 'ললাটে জ্বলিছে তব উদয়াস্ত আকাশের রত্নচূড় ময়ূখের টিপ,কোন্‌ দূর দারুচিনি লবঙ্গের সুবাসিত দ্বীপ' - জীবনানন্দ দাশ

শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে কপালে ছোট্ট একটি টিপ পরলে চেহারার মায়া যেন আরও বেড়ে যায়। সাজে আসে পূর্ণতা। টিপ পরার প্রচলন বেশ আগে থেকে। বেদ, মহাভারত কিংবা রামায়ণের নারী-পুরুষ উভয়েরই টিপ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। টিপ ব্যবহারের উল্লেখ আছে ঋগ্‌বেদেও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালি নারীরা একেক রকম টিপকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে এখন ইচ্ছা করলেই পরা যায় যে কোনো ধরনের টিপ।


কুমকুমের টিপ
আশি-নব্বই দশকের ছেলেমেয়েরা এই টিপের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত। কুমকুম পাওয়া যেত গোল স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কৌটায়। তার ভেতরে বসানো থাকত ১০ রকম রঙের কৌটা। এই রং দিয়ে এবং কৌটার মুখে লাগানো কাঠি দিয়ে নারীরা বিভিন্ন রকম নকশা করে টিপ পরতেন। বিয়ের সময়ে লাল-সাদা কুমকুমের টিপ ছাড়া সাজের কথা চিন্তাই করা যেত না। তবে কুমকুমের প্রচলন শুরু হয় ভারতে। এটি পাউডার হিসেবে হোলি উৎসবের জন্য বিক্রি হতো। পরে এটি ছোট ছোট কৌটায় তরল হিসেবে বিক্রি করা শুরু হয় এবং এর জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি। কুমকুম এখনও অনলাইন কিছু পেজ বিক্রি করে থাকে। এর দাম পড়বে ১০০-১২০ টাকার মধ্যে।
গোল টিপ
এই টিপের প্রচলন বেশ আগে শুরু হলেও এখনও বেশিরভাগ নারী সাধারণ সাজের সঙ্গে গোল টিপ পরতে পছন্দ করেন। একদম বিন্দু আকার থেকে শুরু করে প্রায় ১৮ মিলিমিটার সাইজ পর্যন্ত গোল টিপ বাজারে পাওয়া যায়। ছোট ছোট কৌটায় এবং পাতায় করেও গোল টিপ বিক্রি করা হয়। কখনও এক পাতায় এক রঙের, কখনও বাহারি রঙের টিপ পাওয়া যায়। এই টিপগুলোর পেছনে আঠার সঙ্গে সাদা একটি কাগজ লাগানো থাকে; যার ফলে বারবার ব্যবহার করা যায়। গোল টিপের কৌটাগুলো ১০-১৫ টাকা এবং পাতার সাইজের ওপর নির্ভর করে ১০-২০ টাকায় পাওয়া যায়।
আইলাইনার বা কাজলের টিপ
অনেকেই আইলাইনার দিয়ে নিজের হাতে নকশা করে টিপ পরে থাকেন। কুর্তি, কামিজ, ফতুয়া এসবের সঙ্গে এমন নকশা করা ডিজাইন খুব মানিয়ে যায়। একই রকম টিপ পরা যায় কাজল দিয়েও।
রেডিমেড নকশা করা টিপ
বাজারে বাহারি রকম নকশা করা টিপ পাওয়া যায়। টিপের সঙ্গে বিভিন্ন রঙের পাথর বসানো, লম্বা, গোল, পানপাতা, অভালসহ নানা ডিজাইনের টিপ পাতা আকারে পাওয়া যায়। এসব টিপ ভারী সাজের সঙ্গে এমনকি বিয়ের কনেরাও পরতে পারেন অনায়াসে। এ ধরনের টিপের পাতা ১০০-৩৫০ টাকায় পাওয়া যায়। খুব বেশি নকশা করা টিপ হলে অনেক সময় মাত্র এক পিস টিপ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়।
হাতে তৈরি করা টিপ
এখন অনেক উদ্যোক্তা হাতে আঁকা টিপ নিয়ে কাজ করছেন। এই ধরনের টিপের মধ্যে আবার রকমফের রয়েছে। কাঠের টিপ, মেটালের টিপ, টিপের ওপর হাতে রং করা ইত্যাদি। অনলাইন পেজ থেকে এই ধরনের টিপ কেনা যাবে। অনলাইন শপগুলো বিভিন্নভাবে রং এবং ডিজাইন কাস্টোমাইজ করার সঙ্গেও দিয়ে থাকে। ভিন্নতা থাকার কারণে এখন এই ধরনের টিপ খুব জনপ্রিয়। কাটা ডিজাইনের টিপের দাম ১০ টাকা, কাঠের টিপের দাম ২০ টাকা, মেটালের টিপের দাম ২৫ টাকা এবং হাতে আঁকা টিপের দাম ১২ টাকা থেকে শুরু করে ডিজাইনের ভিন্নতার ওপর দাম পরিবর্তিত হয়ে থাকে।