বাংলাদেশ-নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করার জন্য দুই দেশের আট পর্বতারোহী অবিজিত 'দোগারি হিমাল' শিখর জয়ের অভিযানে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের পর্বতারোহী দলের তিন সদস্য আগামী ৩ অক্টোবর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। চতুর্থ সদস্য ইকরামুল হাসান গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইলে তার চলমান অভিযান ছেড়ে কাঠমান্ডুতে এই দলে যোগ দেবেন।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় অতিথিরা বাংলাদেশ দলের নেতা এম এ মুহিতকে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন। অ্যান্টার্কটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন।

ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, 'পর্বত আরোহণ একটি কঠিন বিষয়। তার অনেকগুলো বিষয় আছে, এর মধ্যে স্পোর্টস বেশি জড়িত। স্পোর্টসের মাধ্যমেও আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূলবোধকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, গভীর করে তুলতে পারে। একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি মনে করি, একটি জাতির উত্থান ও পুনর্জাগরণ একমাত্রিক উন্নয়ন, যেমন শুধু অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি তাহলে কিন্তু হবে না। স্পোর্টস কিন্তু বাংলাদেশের পুনর্জাগরণে প্রথম একটা ক্ষেত্র হওয়া উচিত।'

তিনি আরও বলেন, 'পর্বত আরোহণ করে যারা এই ধরনের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে তাদের প্রতি শুভ কামনা। প্রত্যাশা করছি তারা যেন নিরাপদে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন এবং ফেরত আসতে পারেন।'

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি বলেছেন, 'বাংলাদেশ-নেপালের কূটনৈতিক ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এই এধরনের একটা যৌথ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে উভয় দেশের জন্য ভালো একটা খবর। দুই দেশের ভাষাগত ভিন্নতা থাকলেও একে অপরের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। আমিও বাংলা শেখার চেষ্টা করছি। বাংলা সংবাদপত্র পড়তে চেষ্টা করছি, আশা করছি খুব শিগগিরই আমি আমার দায়িত্ব পালনে বাংলা ভাষাতেও কথা বলতে পারব। সামাজিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উভয় দেশ একে অপরের পরিপূরক। এক দেশ অপর দেশের নেতা ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ আছে। আমরা সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসম্পর্কে নিয়ে যেতে চাই, প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ভ্রমণ তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।'

এম এ মুহিত বলেন, দোগারি হিমাল শিখরে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ অভিযানটি হচ্ছে আমাদের জন্য সম্পূর্ণ অজানা। সবকিছু অজানা তাই সেখানে গিয়ে আমাদের ঠিক করতে হবে কি সম্মুখে অপেক্ষা করছে। কাঠমান্ডুতেও আমাদের একটি সংবাদ সম্মেলন হবে তারপর আমরা অভিযানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করব। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা আশা করছি এই অভিযানটি ২৮ দিনে দোগারি হিমাল শিখর জয় করতে সক্ষম হব। বাংলাদেশের তরুণরা যে পৃথিবীর দুর্গম জায়গায় যেতে পারে সেই সহযোগিতা চান মুহিত।

এসময় বক্তব্য প্রদান করেন ইস্পাহানি টি লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ হারুন, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র মার্কেটিং ম্যানেজার ফজল মাহমুদ রনি প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, চার সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন এম এ মুহিত। যিনি দুইবার এভারেস্ট আরোহণ করেছেন। অপর তিন সদস্যের মধ্যে বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান একটি ৭০০০ মিটার চূড়াসহ হিমালয়ের একাধিক পর্বত আরোহণ করেছেন এবং রিয়াসাদ সানভী ভারতে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নেপালে পর্বত আরোহণে অংশ নিয়েছেন। চার সদস্যের নেপাল দলের নেতৃত্বে থাকবেন বিখ্যাত পর্বতারোহী ও গাইড মিংমা গ্যালজে শেরপা।