পূজার দিনগুলোতে প্রতিদিনই ঘরে মণ্ডা-মিঠাই, মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখতে পারেন। বাড়িতে অতিথি এলে আপ্যায়নটাও জমবে। চারটি মিষ্টিজাতীয় খাবারের রেসিপি দিয়েছেন ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের এক্সিকিউটিভ শেফ বেনোফাস গোমেজ

দুধ কদু
উপকরণ :লাউ ১টি, চিনি দেড় কাপ, দারচিনি ২-৩টি, এলাচ ২-৩টি, দুধ ১ লিটার, চালের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি :লাউ ধুয়ে কেটে নিন। খোসা ছিলে পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। লাউয়ের ভেতরের বীজ ছাড়িয়ে আবারও ভিজিয়ে রাখতে হবে। গ্রেটারের সাহায্যে লাউ খুব পাতলা করে কেটে নিন। আবারও পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে অল্প পানি ও চিনি দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়ুন। চিনি একটু গলে গেলে ছেঁকে রাখা লাউ দিয়ে দিন। এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে ২০-২৫ মিনিট নাড়ুন। পানি শুকিয়ে গেলে এটি আঠালো হয়ে যাবে। এটি ঠান্ডা করে ১ বছর পর্যন্ত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। এবার একটি পাত্রে দুধ গরম করুন। দুধ ঘন হয়ে এলে আগে থেকে তৈরি লাউ চিনির মিশ্রণটি দিন। মাঝারি আঁচে ৫ মিনিট রান্না করুন। হয়ে গেলে সুন্দর পাত্রে পরিবেশন করুন।

শাহি রাবড়ি
উপকরণ :দুধ দেড় লিটার, চিনি ২ টেবিল চামচ, সবুজ এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, স্লাইস করা বাদাম ১০টি, গোলাপজল অথবা কেওড়াজল ১ টেবিল চামচ,
জাফরান ৫-৭টি, স্লাইস করা পেস্তাবাদাম ১০টি।
প্রস্তুত প্রণালি :চুলার আঁচ মাঝারি রেখে পাত্রে দুধ গরম করুন। দুধ ফুটতে শুরু করলে আঁচ কমিয়ে দিন। ৩-৪ মিনিট পর পর নাড়ুন। যখন দুধের সরের স্তর পড়বে, সেটি প্যানের পাশের দিকে সরিয়ে রাখুন। যতবার দুধের সর জমবে, ততবার পাত্রের একপাশে সরিয়ে রাখুন। যতক্ষণ না দুধ মূল পরিমাণের ১/৩ অংশ কমে যায়, ততক্ষণ জ্বাল দিতে থাকুন। এই পর্যায়ে চিনি দিয়ে দিন এবং মিশে যাওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এলাচ গুঁড়া, কাটা বাদাম, জাফরান, গোলাপ/কেওড়াজল, কাটা পেস্তাবাদাম দিয়ে ভালোভাবে মেশান। আরও কয়েক মিনিট রান্না করুন। তারপর চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য, অর্থাৎ ঘরের তাপমাত্রায় ফিরে আসার জন্য রেখে দিন। দুই ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে পছন্দমতো বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

গাজরের হালুয়া
উপকরণ :মাঝারি আকারের গাজর ১০-১২টি, দুধ ১ লিটার, চিনি ১ কাপ,
এলাচ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, স্লাইস করা পেস্তামিশ্রিত
বাদাম বা কিশমিশ ১ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি :একটি হ্যান্ড গ্রেটার বা ফুড প্রসেসরের মোটা সাইড ব্যবহার করে গাজর ধুয়ে, খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং গ্রেট করুন। একটি পাত্রে ১ টেবিল চামচ ঘি দিন। মাঝারি আঁচে রেখে পেস্তাসহ অন্যান্য বাদাম দিন। হালকা সোনালি রং না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। কিশমিশ দিয়ে আরও ১৫ সেকেন্ড ভাজুন। বড় পাত্রে গ্রেট করা গাজর দিন। তাপ মাঝারি-উচ্চে ঘুরিয়ে দিন। গাজর ৫ মিনিটের জন্য ভাজুন, যাতে কিছুটা আর্দ্রতা দূর হয়। এবার একই পাত্রে দুধ যোগ করুন এবং গাজরসহ দুধ ফুটতে দিন। মাঝারি আঁচে রান্না করতে থাকুন। পানি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত রান্না করুন এবং ঘন ঘন নাড়ুন। ৩৫-৪৫ মিনিট পর চিনি দিন। চিনি পানি ছেড়ে দিয়ে হালুয়াকে একটু নরম করবে। চিনির পানি শুকিয়ে এলে এলাচ গুঁড়া ও বাকি ঘি দিন। কয়েক মিনিট ভেজে বাদাম দিয়ে সাজান এবং ভ্যানিলা আইসক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন।

তিলের নাড়ু
উপকরণ :সাদা তিল ২০০ গ্রাম, চিনি/ব্রাউন সুগার আধা কাপ, তেল-ঘি পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালি :তিল কয়েক মিনিট ভেজে পাত্রে ঢেলে দিন। চুলায় আরেকটি পাত্র বসিয়ে চিনি ও কাপের এক-তৃতীয়াংশ পানি দিন। হালকা তাপে নাড়ুন, যতক্ষণ না এটি আঠালো হয়ে যায়। আঁচ বন্ধ করে ভাজা তিলগুলো দিয়ে দিন। ভালো করে মিশিয়ে ঠান্ডা করে নিন। ছোট ছোট বল তৈরির জন্য পরিমাণমতো চামচে মেপে হাতের তালুতে নিন। বল তৈরির জন্য হাতের তালুতে সামান্য তেল দিয়ে নিন। বল তৈরি হয়ে গেলে প্লেটে সাজিয়ে নিন। তিলের নাড়ু এয়ার টাইট পাত্রে তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

বিষয় : মিষ্টি খাবার রেসিপি

মন্তব্য করুন