ওজন কীভাবে কমানো যায়- এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন অতিরিক্ত ওজনের মানুষ। খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দেবেন, নাকি হুলস্থুল ব্যায়াম শুরু করবেন- কোনোটাই বুঝে উঠতে পারেন না। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকে অনেক ধরনের ভুল করে থাকেন; অনেকের থাকে পরিকল্পনার অভাব। ওজন কমানো এক দিনের বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরুর আগে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

মোটা হওয়ার কারণ
- ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাওয়া এবং খাবার গ্রহণে অনিয়ম।
-ক্ষুধা নেই অথচ ভালো খাবার দেখলে খেতে ইচ্ছা করে। ফলে শরীরে মেদ জমে মোটা হয়ে যেতে থাকেন মানুষ নিজের অজান্তে।
- শারীরিক পরিশ্রম কম করলেও ওজন বাড়ে।
-বংশগত কারণে অনেকের মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে। খাবার যখন পাকস্থলীতে কম থাকে, তখন জিন শরীরে ফ্যাটের স্টোরেজ বাড়িয়ে দেয়। এরপর খাবার বেশি খেলে এবং শক্তি ক্ষয় কম হলে ওজন বেড়ে যায়।
-ওজন কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হলো- এমন ডায়েট মেনে চলা, যাতে বেশি পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে। মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন ও কম পরিমাণে ফ্যাট থাকে।
- অনেকে ওজন কমাতে গিয়ে প্রোটিনজাতীয় খাবার বন্ধ করে দেন। তাঁরা মনে করেন, নিয়মিত প্রোটিন খেলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। কাঙ্ক্ষিত ওজন পেতে চাইলে খাবারে অবশ্যই সঠিক পরিমাণ প্রোটিন যোগ করুন।
-বিষণ্ণতায় আক্রান্ত রোগীরা ক্রমান্বয়ে মোটা হয়ে যেতে পারেন। যারা মাইগ্রেনের ওষুধ নিয়মিত সেবন করেন, তারাও মুটিয়ে যেতে পারেন ধীরে ধীরে।

সাধারণ ডায়েট টিপস
-আপনি যদি ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন, তবে শরীরচর্চার পাশাপাশি অবশ্যই শুরু করতে হবে স্ট্রেন্থ ট্রেনিং। কারণ মাসলে টান ধরা সবচেয়ে জরুরি। আপনি নিয়মিত এটি করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে। খুব দ্রুত আপনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন। তাই ওজন কমাতে চাইলে এই দিকে খেয়াল রাখুন।
- প্রতিদিনের খাবারে রাখুন বিভিন্ন ধরনের সালাদ। সেই সঙ্গে প্রতিদিন সবজি খেতে হবে। সবজিতে থাকে কম ক্যালরি এবং বেশি ফাইবার। ফাইবার ও ক্যালরির এই চমৎকার সমন্বয় ওজন কমাতে দারুণ সহায়ক।
- ডুবো তেলে ভাজা কিছু খাবেন না।
- এনার্জি ড্রিংকস, হেলথ ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস খাবেন না।
-চিনি একেবারেই খাবেন না।
-গরু, খাসির মাংস ও চিংড়ি মাছ বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া এড়িয়ে চলুন।
- আপনার খাদ্যাভ্যাস ও বাজেটের ওপর ভিত্তি করে ডায়েট চার্ট তৈরি করে নিন। কোন ধরনের কাজের সঙ্গে আপনি যুক্ত, তার ওপর নির্ভর করবে আপনার ডায়েট চার্ট।
- খাদ্যতালিকায় ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যাতে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
-প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে ফল, শাকসবজি ও পানি পান করুন।
[পুষ্টিবিদ]